আলিপুর আদালতে জামিন পেলেন সৃজন ভট্টাচার্য, পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ নওশাদের

হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে গ্রেপ্তার সৃজনের জামিন, পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নওশাদের
কলকাতা ব্যুরো: যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সিপিআইএম (CPIM) নেতা সৃজন ভট্টাচার্য সহ ৫ জন বাম কর্মীর জামিন মঞ্জুর করল আলিপুর আদালত। হকারদের রুটি-রুজি রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তাঁদের হাজতবাস করতে হয়েছিল। এই জামিনের রায়ের পরপরই সৃজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। ভাঙড়ের বিধায়ক বামেদের এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন।
উচ্ছেদের নেপথ্য কারণ ও ক্ষোভ
সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে সরকারি জায়গা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে যাদবপুরেও পুলিশ ও প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে নামলে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। বামেদের দাবি, কোনো আগাম নোটিশ বা বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই আচমকা এই উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন ও জীবিকাকে চরম সংকটে ফেলেছে। এই উচ্ছেদ রুখতে গিয়েই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন সৃজন ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য বাম যুবনেতারা, যার জেরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর সৃজনের পাশে নওশাদ সিদ্দিকীর দাঁড়িয়ে থাকা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। নওশাদ সিদ্দিকী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পুনর্বাসন না দিয়ে কোনোভাবেই হকার উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হবে না। সরকারের মূল কাজ কর্মসংস্থান তৈরি করা, মানুষের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়া নয়। এই ইস্যুতে বামপন্থীদের পাশাপাশি আইএসএফ-ও রাজপথে থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে কলকাতার বুকে বাম-আইএসএফ জোটের যৌথ আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়তে পারে। পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছাড়া প্রশাসন যদি পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে যায়, তবে তা আরও বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।