এবার কি মমতার হাত ছাড়ছেন ববিও? বিধানসভায় ঋতব্রতর ঘরে ফিরহাদ, চরম জল্পনা বঙ্গে
দিল্লিতে ভাঙন এবার কি কলকাতায়, বিধানসভায় ঋতব্রতর ঘরে ফিরহাদকে ঘিরে জোরালো জল্পনা
দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে নজিরবিহীন ধসের আবহেই এবার খোদ কলকাতায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির জল্পনা উসকে দিলেন রাজ্যের প্রবীণ নেতা ফিরহাদ হাকিম। সোমবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তৃণমূলের এই দাপুটে নেতার উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই ফিরহাদকে নিয়ে জল্পনা চলছিল। এদিন বিধানসভায় তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে তাঁর প্রবেশ সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর বিধানসভা থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ হাকিম কেবল ‘নো কমেন্ট প্লিজ’ বলে এড়িয়ে যান।
তৃণমূলে দিল্লির ধাক্কা ও ববির ক্ষোভ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আকস্মিক সাক্ষাতের নেপথ্যে রয়েছে জাতীয় ও রাজ্য স্তরের একাধিক গভীর কারণ। একদিকে দিল্লিতে যখন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় দল ছেড়েছেন এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনডিএ ব্লকে শামিল হওয়ার চিঠি দিয়েছেন, ঠিক তখনই কলকাতায় মমতার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে পরিচিত ‘ববি’র এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মেয়রের পদ খোয়ানোর পর থেকেই দলের অন্দরে ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ‘নব্য তৃণমূল’ বনাম ‘পুরোনো তৃণমূল’ দ্বন্দ্বের জেরে কোণঠাসা হয়েই হয়তো তিনি বিকল্প রাজনৈতিক পথের সন্ধান করছেন। এদিন বিধানসভার লবিতে মন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গেও তাঁর আলাদাভাবে কথা বলতে দেখা গেছে, যা দলের ভেতরের অসন্তোষেরই ইঙ্গিতবাহী।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও নতুন সমীকরণ
এই বৈঠকের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে। বৈঠক শেষে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানান, ববিদা তাঁদের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন এবং আলাদাও কথা হয়েছে। তবে তাঁর শেষ মন্তব্যটি অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ, যেখানে তিনি বলেন, ‘এর পরে যা হবে, স্পিকারের কাছে ব্যক্তিগত ভাবে গিয়ে চিঠি দিতে হবে।’ এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে বড়সড় কোনো রদবদল বা দলবদলের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। দিল্লিতে তৃণমূল সংসদীয় দল কার্যত খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার পর, কলকাতাতেও যদি ফিরহাদ হাকিমের মতো শীর্ষ স্তরের নেতা মমতার হাত ছাড়েন, তবে তা রাজ্য প্রশাসনে ও শাসক দলের সংগঠনে বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।