নগ্ন হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস ডেকে আনছে বিপদ? জেনে নিন কেন এই অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর!

নিউজ ডেস্ক: রাতে নগ্ন হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। বিশেষ করে গরমের রাতে শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেকেই পোশাক ছাড়া ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই অভ্যাসটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে? সম্প্রতি এক মার্কিন চিকিৎসকের দাবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
কী দাবি চিকিৎসকের? আমেরিকার বিখ্যাত প্লাস্টিক সার্জন ডা. অ্যান্থনি ইয়ুন (Dr. Anthony Youn MD) তাঁর একটি টিকটক ভিডিওতে নগ্ন হয়ে ঘুমানোর অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরেছেন। ডাক্তারবাবুর মতে, নগ্ন হয়ে ঘুমানো মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়, বরং এটি চরম অস্বাস্থ্যকর বা ‘আনহাইজেনিক’।
কেন এই সতর্কতা? ডা. ইয়ুন ব্যাখ্যা করেছেন যে, মানুষ ঘুমানোর সময়ও অনিচ্ছাকৃতভাবে গ্যাস ছাড়ে। বিজ্ঞানসম্মত গবেষণায় দেখা গেছে, গ্যাস ছাড়ার সময় বাতাসের সাথে খুব সূক্ষ্ম পরিমাপে মলের কণা (Fecal material) বা ব্যাকটেরিয়া নির্গত হয়। নগ্ন হয়ে ঘুমালে এই কণাগুলো সরাসরি আপনার বিছানার চাদরে পড়ে। সেখান থেকে পুনরায় আপনার শরীরে বা আপনার সঙ্গীর শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা থেকে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, রাতে অন্তত হালকা অন্তর্বাস পরে ঘুমানো উচিত এবং নিয়মিত বিছানার চাদর পরিবর্তন করা জরুরি।
নারীদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কী করণীয়? অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অনেক গাইনোকোলজিস্ট তো ব্যক্তিগত অঙ্গের সুস্বাস্থ্যের জন্য অন্তর্বাস ছাড়া ঘুমানোর পরামর্শ দেন? এই প্রসঙ্গে ডা. ইয়ুন স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত কারণে আপনার চিকিৎসক আপনাকে অন্তর্বাস ছাড়া ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শই মেনে চলা উচিত।
ঘুম বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন মত: শুধুমাত্র পরিচ্ছন্নতা নয়, ঘুমের মান ভালো রাখতেও পোশাকের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
- ঘাম ও আর্দ্রতা: নিউরোলজিস্ট এবং স্লিপ ফিজিশিয়ান ডা. গাই লের্জিনার-এর মতে, নগ্ন হয়ে ঘুমালে শরীরের ঘাম শুকানোর জায়গা পায় না, ফলে বিছানায় অস্বস্তি বাড়ে।
- সুতির পোশাকের সুবিধা: ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোপুরি নগ্ন হওয়ার চেয়ে হালকা সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরে ঘুমানো অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এই পোশাক শরীরের ঘাম শুষে নেয় এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেখেছেন। কেউ কেউ এই তথ্য মেনে নেওয়ার কথা বলছেন, আবার অনেকেই নিজের দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলাতে নারাজ। তবে স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে চিকিৎসকদের এই সতর্কবার্তাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।