অবশেষে স্বপ্নপূরণ! শুভেন্দুর হাত ধরে বাংলায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’

অবশেষে স্বপ্নপূরণ! শুভেন্দুর হাত ধরে বাংলায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’

বাংলায় এবার ঐতিহাসিক আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নয়া দিগন্তের সূচনা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে মোদী সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় জনমুখী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (AB PM-JAY)। ৮ জুন ২০২৬, নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির (NHA) সঙ্গে এই সংক্রান্ত এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে (MoU) স্বাক্ষর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডার উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই চুক্তির ফলে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবারের সাড়ে ৬ কোটিরও বেশি মানুষ প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করল। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের গরিব মানুষের জন্য এই প্রকল্প চালু করলেও, রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে বাংলার মানুষ এতদিন এই অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দিন থেকেই কেন্দ্রের সমস্ত জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বাংলায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন বিরোধী সরকারকে বাংলার মানুষ বিদায় দিয়েছে এবং এবার রাজ্যের ঘরে ঘরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছাবে।

বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা

এই প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত যে কোনো সরকারি ও বড় কর্পোরেট বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচায় চিকিৎসা পাওয়া যাবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ক্যাশলেস হওয়ায় এখানে কোনো কাটমানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব থাকবে না এবং সরাসরি হাসপাতাল বিল মিটিয়ে দেবে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর। পশ্চিমবঙ্গের কোনো পরিযায়ী শ্রমিক যদি দিল্লি, মুম্বই বা চেন্নাইয়ের মতো ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হন, তবে সেখানেও এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের নামী হাসপাতালগুলোতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পারবেন।

পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া

চুক্তি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রীয় সরকার বড় আর্থিক প্যাকেজ বরাদ্দ করছে। ন্যাশনাল হেলথ মিশনের (NHM) প্রথম কিস্তির ৫২৭ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যের ফান্ডে রিলিজ করে দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে গতি আনবে।

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, পূর্বতন সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের উপভোক্তাদের সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আগামী জুলাই ২০২৬ থেকেই রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উপভোক্তাদের হাতে নতুন ‘আয়ুষ্মান কার্ড’ তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর ফলে গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া বিপুল জনসংখ্যা উন্নত চিকিৎসার সুনিশ্চিত আওতায় চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *