ভোট চুরির অভিযোগে এবার প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিচ্ছে ইন্ডিয়া জোট, সর্বসম্মতভাবে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চাইলেন খাড়গে

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলির ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের হাইভোল্টেজ বৈঠক শেষে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এক অল-আউট লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং ছাত্র সমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে এককাট্টা হয়ে এই আন্দোলন গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছে বিরোধী শিবির। সোমবারের এই মেগা বৈঠকে মোট ২৫টি সহযোগী দল অংশ নেয়। বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর পাঁচটি মূল বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনে মোদী সরকারের চাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হচ্ছে বিরোধী জোট
এবারের জোট বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক হলো দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে সরাসরি ভারতের প্রধান বিচারপতির (CJI) দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর নামে কৌশলে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে এই প্রক্রিয়াকে সরাসরি ‘ভোট চুরি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই মারাত্মক আইনি ও সাংবিধানিক সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ২৫টি দলের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে একটি যৌথ চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
পরীক্ষা বিতর্ক ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোদী সরকারকে তীব্র কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে বিরোধী শিবির। সম্প্রতি নিট (NEET) এবং সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও চরম অব্যবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল। জোটের ২৫টি দলই সর্বসম্মতভাবে দেশের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, মন্ত্রীর নজরদারির অভাবেই লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে। এই ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
২৫টি দলের এই অভূতপূর্ব ঐক্য এবং সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ আন্তর্জাতিক স্তরেও দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে পারে। অন্যদিকে, পরীক্ষা বিতর্কে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে আন্দোলনের ঘোষণা আগামী দিনে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের ওপর প্রবল মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।