বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার প্রতীক্ষার অবসান! কবে থেকে মিলবে টাকা?

নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিগত সরকারের চালু করা সামাজিক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই সংশয় কাটিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার স্পষ্ট করেছে, জনকল্যাণমূলক কোনো প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বার্ধক্য এবং বিধবা ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিল রাজ্য সরকার। পাশাপাশি যুবকদের জন্য প্রস্তাবিত ভাতার বিষয়েও ইতিবাচক বার্তা মিলেছে সরকারের অন্দরে।
সামাজিক প্রকল্পের ধারাবাহিকতা ও নতুন দিশা
সম্প্রতি উলুবেড়িয়ার এক সরকারি অনুষ্ঠানে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার ন্যায় অন্যান্য সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো যেমন বজায় থাকছে, তেমনই শীঘ্রই বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার সুবিধা প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশেষ করে, অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বার্ধক্য ভাতার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এর পাশাপাশি, বেকার যুবকদের ভাতার বিষয়েও সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে, যা কর্মসংস্থানের সন্ধানে থাকা তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি
এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে নতুন সরকার। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কথায়, বিগত সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই অযোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি সুবিধার আওতাভুক্ত হয়েছিলেন, যা প্রকৃত দাবিদারদের বঞ্চিত করেছে। সেই অনিয়ম দূর করতে তালিকা ঝাড়াইবাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভুল তালিকা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এবং নিয়ম মেনে যোগ্যদের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। যদিও ভাতার আর্থিক পরিমাণ বাড়ানো হবে কি না বা আগের ১০০০ টাকার কাঠামোই বহাল থাকবে, তা নিয়ে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবুও সরকারি এই উদ্যোগের ফলে প্রান্তিক ও অসহায় মানুষরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন।