হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন চপার দুর্ঘটনা, ইরানে বিমান হামলা ও তেহরানের পাল্টা হুঙ্কারে ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া!

হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছেন। যার জেরে মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে এবং এর জবাবে তেহরানও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সংঘর্ষ ও নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান
টহলরত অবস্থায় হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন আক্রমণকারী হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের একটি চালকবিহীন ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। তবে এই সংঘর্ষ ইচ্ছাকৃত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পর সমুদ্রে ছিটকে পড়া দুই মার্কিন সেনাকর্মীকে উদ্ধারে সামরিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি চালকবিহীন জলযান ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাদের নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা হয় এবং সেনাকর্মী দুজন বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
মার্কিন হামলা ও তেহরানের প্রতিক্রিয়া
হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার জেরে মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ইরান বন্দর আব্বাস এবং কেশম দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় হামলার কথা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি, তিনি বিদেশি সামরিক বাহিনীকে দ্রুত ওই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
চলতি বছরের শুরু থেকে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যকার চলমান এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক এই নতুন উত্তেজনার ফলে অঞ্চলটিতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।