মমতার বাড়িতে সিআইডি হানা! চর্চায় একসময়ের আস্থাভাজন সুপ্রতিম সরকার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চর্চিত ‘সই জাল’ কাণ্ডের তদন্তে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে হানা দিয়েছে সিআইডি। এই নজিরবিহীন অভিযানের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে ওই এলাকায় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ক্ষমতাচ্যুতির পর তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করলেও, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে বর্তমান এডিজি সিআইডি সুপ্রতিম সরকারকে নিয়ে। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন বলে পরিচিত এই অফিসারের নেতৃত্বাধীন বাহিনীই আজ তাঁর ঘরের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে।
বাঙালি আবেগের তাস ও নির্বাচন
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘বাঙালি গরিমা’ ও ভাবাবেগ কাজে লাগাতে সুপণ্ডিত ও চমৎকার বাংলা বলায় পারদর্শী সুপ্রতিম সরকারকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে বসিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভোটের স্বার্থে তাঁকে সেই পদ থেকে অপসারণ করলে, তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে ‘বাঙালির ওপর বহিরাগত আক্রমণ’ হিসেবে প্রচারের হাতিয়ার করতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হলেও, সুপ্রতিম সরকারকে সিআইডি-র শীর্ষ পদ থেকে সরানো হয়নি।
বদলানো সমীকরণ ও প্রভাব
বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সেই রাজনৈতিক হিসাব পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রভাব ও বাস্তবতা হলো, ক্ষমতা হারানোর পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর একসময়ের পরম বিশ্বস্ত পুলিশ অফিসারদের কাছ থেকেও আইনি সঙ্কটের দিনে কোনো ‘সাহায্য’ বা রক্ষাকবচ পাচ্ছেন না। সুপ্রতিম সরকারের পদে থাকাকালীন তাঁরই বাহিনীর এই কালীঘাট অভিযান রাজ্য রাজনীতির সেই চরম পরিবর্তিত সমীকরণকেই পুনর্প্রতিষ্ঠিত করেছে।