তৃণমূল কাউন্সিলরের কাছে তোলাবাজি করে হাতেনাতে গ্রেফতার ইউটিউবার!

হুগলির উত্তরপাড়ায় তৃণমূল কাউন্সিলরকে হুমকি ও ব্ল্যাকমেল করে টাকা হাতানোর অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ইউটিউবার শুভজ্যোতি চক্রবর্তী এবং তার এক সঙ্গী। সোমবার শ্রীরামপুর আদালতে অভিযুক্তদের পেশ করে তাদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পুকুর ভরাটের ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি
উত্তরপাড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর মৌসুমী বিশ্বাসের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ। জানা যায়, ওই কাউন্সিলর সম্প্রতি একটি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। সেই বাড়ি তৈরিতে জলাশয় বোজানোর অভিযোগ তুলে এক লক্ষ টাকা দাবি করেন ইউটিউবার শুভজ্যোতি। টাকা না দিলে পরিণতি ভালো হবে না বলে হোয়াটসঅ্যাপ কলে লাগাতার হুমকি ও ব্ল্যাকমেল করা হয় বলে অভিযোগ। অবশেষে সোমবার পুরসভায় প্রথম কিস্তির টাকা নিতে এলে পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় মানসিক যন্ত্রণা থেকে স্বস্তি প্রকাশ করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৌসুমী বিশ্বাস।
হাওয়ালার পাল্টা অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
গ্রেফতারের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন ওই ইউটিউবার। উলটে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলর সিন্ডিকেট করে হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছেন এবং তাদের দুর্নীতি ঢাকতেই তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম নেননি।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতি এবং সমাজমাধ্যমে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যেমন ইউটিউবারের বিরুদ্ধে প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি এবং নিচুতলার কর্মীদের দমিয়ে রাখার অভিযোগ সামনে আসছে, অন্যদিকে তার তোলা হাওয়ালা-তত্ত্ব স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে নিছকই ব্ল্যাকমেলিং রয়েছে, নাকি অন্তর্নিহিত কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।