দিঘার উন্নয়নে মেগা পরিকল্পনা, নাম বদলে গেল জগন্নাথ ধামের!

পর্যটন মানচিত্রে দিঘাকে আরও আকর্ষণীয় ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে তুলতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। পূর্ব মেদিনীপুরের এই উপকূলবর্তী এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি, দিঘার জগন্নাথ ধামের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোয় বড় বদল
দিঘার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনুধাবন করে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল জানিয়েছেন, দিঘা-জলেশ্বর রেলসংযোগের কাজ দ্রুত শুরু হতে চলেছে। এর পাশাপাশি তাজপুর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কাজও ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে দিঘা-বালিশাই বাইপাস রাস্তার নির্মাণকাজও শীঘ্রই গতি পাবে। এতদিন জমি অধিগ্রহণ নিয়ে যে জটিলতা ছিল, তা দূর করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও, ‘দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন অথরিটি’-র পরিধি বাড়িয়ে গোটা উপকূলবর্তী এলাকাকে এর আওতাভুক্ত করা হচ্ছে।
নামবদল জগন্নাথ মন্দিরের
পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দিঘার জগন্নাথ ধামের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র আবেদন করেছিলেন যে, ভারতে মূল ধাম চারটি হওয়ায় অন্য কোথাও ‘ধাম’ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত নয়। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই আবেদন মেনে নেন। ফলে এখন থেকে দিঘার জগন্নাথ ধাম পরিচিত হবে ‘দিঘার জগন্নাথ মন্দির’ নামে।
মূলত পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উপকূলবর্তী এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিই এই নতুন প্রকল্পগুলির প্রধান কারণ। উন্নত রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে পর্যটকদের সমাগম যেমন বহুগুণ বাড়বে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়ে এলাকার অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।