অ্যাপাচের পর এবার ধ্বংস মার্কিন ড্রোন! মধ্যপ্রাচ্যে পুরোদমে সম্মুখ সমরে আমেরিকা ও ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা কার্যত শেষ। মার্কিন অত্যাধুনিক সামরিক হেলিকপ্টার অ্যাপাচে ধ্বংসের পর এবার আমেরিকার এমকিউ-৯ ড্রোনও গুঁড়িয়ে দিল ইরান। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধবিরতির সমস্ত সম্ভাবনা আপাতত হিমঘরে চলে গিয়ে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে।
মার্কিন হামলার কড়া জবাব ইরানের
সোমবার হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের হামলায় আমেরিকার একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার পর থেকেই বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত। এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেল থেকে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালায় মার্কিন সেনা। কোহেস্তাক, সিরিক, মিনাব এবং বন্দর আব্বাসের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই আক্রমণ চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এটিকে আত্মরক্ষামূলক এবং ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব হিসেবে আখ্যা দিলেও তেহরান প্রত্যাঘাত করতে বিন্দুমাত্র সময় নেয়নি।
যুদ্ধের আবহ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মঙ্গলবার গভীর রাতে বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন নৌবহরকে নিশানা করে একাধিক ড্রোন হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করপস বা আইআরজিসি। হরমুজ প্রণালীর আকাশে উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোনকেও মাঝ-আকাশে ধ্বংস করে তারা। এছাড়াও জর্ডানে আমেরিকার আল আজরাক বিমানঘাঁটিতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আমেরিকার এফ-৩৫ সহ অত্যাধুনিক সব যুদ্ধবিমান রয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, যে কোনও মার্কিন হামলার আরও ভয়ংকর জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে, যার জেরে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।