শান্তিকালীন সময়েই ১২টি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন ভারতের! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

শান্তিকালীন সময়েই ১২টি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন ভারতের! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর ২০২৬ সালের ইয়ারবুক অনুযায়ী, শান্তিকালীন সময়েই ১২টি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত। দেশের ইতিহাসে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া শান্তিকালীন সময়ে এত সংখ্যক পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ঘটনা এই প্রথম। বিশ্বের সামরিক এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই রিপোর্টটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেশী দেশের চাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে জাতীয় শক্তি ও নিরাপত্তার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে আগের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিনের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি ভারতের জন্য একটি বড় সামরিক ও কৌশলগত কারণ। ২০২৫ সালে চিন ২৪টি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করেছিল, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ৩৪টি করা হয়েছে। চিনের এই ক্রমাগত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কারণেই মূলত ভারত শান্তিকালীন সময়েও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়া মহাদেশের এই দুই বৃহৎ শক্তির পাল্লা দিয়ে পরমাণু অস্ত্র বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে পরমাণু অস্ত্রের পরিসংখ্যান

SIPRI-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৯টি দেশ—আমেরিকা, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, চিন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইজরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বে মোট আনুমানিক ১২,১৮৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৯,৭৪৫টি সামরিক ভাণ্ডারে সংরক্ষিত। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪,০১২টি ওয়ারহেড সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মোতায়েন অবস্থায় রয়েছে। সর্বাধিক অস্ত্র মোতায়েনের দিক থেকে ১,৭৯৬টি ওয়ারহেড নিয়ে রাশিয়া শীর্ষে অবস্থান করছে এবং খুব কাছাকাছি জায়গায় রয়েছে আমেরিকা (১,৭৭০টি)। প্রায় ২,১০০ থেকে ২,২০০টি পারমাণু ওয়ারহেড চরম সতর্কতায় বা হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে, যার বেশিরভাগই এই দুই পরাশক্তির অধীনে। তবে সার্বিক পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, চিন ও ভারত ধীরে ধীরে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ক্ষমতা এবং নজরদারি বৃদ্ধি করছে, যা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *