যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ড! অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে হাই কোর্টের কড়া প্রশ্ন
কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, প্রাক্তন মন্ত্রী কেন আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলারের এতটা কাছাকাছি ছিলেন এবং কেন তাঁর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলো। এছাড়া রাজ্যের অন্যান্য স্থানে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও কলকাতায় কেন এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছে আদালত।
টিকিট বিতর্ক ও অব্যবস্থাপনা
এই ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে টিকিট বণ্টন ও ব্যবস্থাপনায় চরম ত্রুটি। আদালতের কাছে আয়োজকদের আইনজীবী দাবি করেছেন, অনুষ্ঠানের জন্য মোট ৭০ হাজার টিকিট ছাপা হয়েছিল, যার মধ্যে অরূপ বিশ্বাস একাই তাঁর বিধানসভা এলাকার জন্য ২২ হাজার টিকিট নিয়ে নেন। এছাড়া একাধিক ক্লাবের কাছেও তিনি টিকিট বিক্রি করেছিলেন বলে অভিযোগ। এই অতিরিক্ত ভিড় এবং অব্যবস্থাপনার কারণে বহু দর্শক টিকিট কেটেও অনুষ্ঠান মাঠে প্রবেশ করতে পারেননি। একইসঙ্গে তারকা খেলোয়াড়ের অতি-নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
আইনি সংকটে প্রাক্তন মন্ত্রী
যুবভারতীর ঘটনায় আয়োজকদের করা এফআইআর এবং একাধিক ধারায় মামলার জেরে গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। তবে আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করার আগে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে অরূপ বিশ্বাসকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে হাজির হতে হবে। পাশাপাশি, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই অনভিপ্রেত ঘটনার জেরে নৈতিক দায় স্বীকার করে তিনি আগেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাই কোর্টের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ ও আইনি বেড়াজালের কারণে প্রাক্তন এই মন্ত্রীর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ যে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল, তা স্পষ্ট।