প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে গ্যালারির শূন্যতা আর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ

মাঠের লড়াইয়ে মেসি নামছেন আবার, কিন্তু হৃদয়ে আর্জেন্টিনার রক্ত বইয়ে চলা প্রিয় বন্ধু রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আজ নেই। প্রিয় দলের বিশ্বকাপ অভিযানের প্রাক্কালে কবি শ্রীজাতর কলমে উঠে এল এক বন্ধুর প্রতি অন্য বন্ধুর হাহাকার আর অমোঘ নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস। মারাদোনা-মেসি এবং আর্জেন্টিনাকে ঘিরে তাঁদের যে গভীর বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন ছিল, তা যেন আজ এক নিঃসঙ্গ বিষাদে রূপ নিয়েছে।
স্মৃতির পাতায় ২০২২-এর বিশ্বকাপ
শ্রীজাতর স্মৃতিতে অমলিন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের আগের সেই সকাল। মারাদোনার ছবি সংবলিত বিশেষ টি-শার্ট ছাপিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠদের উপহার দেওয়া ছিল রাহুলের আর্জেন্টিনার প্রতি অন্ধ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সৌদি আরবের কাছে হারের ধাক্কায় যখন নেটদুনিয়া সরব, তখন রাহুলই ছিলেন কবির একমাত্র ভরসা। ডিসেম্বরে মেসির হাতে বিশ্বকাপ ওঠার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ফোনের ওপারে দুই বন্ধুর একসাথে হাউহাউ করে কাঁদার স্মৃতি আজও কবিকে আচ্ছন্ন করে রাখে। রাহুলের সেই অকৃত্রিম পাগলামিই আজ শ্রীজাতর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতা।
শ্মশানের সেই নির্মম জাম্প কাট
রাহুলের প্রস্থান কেবল টলিউডের ক্ষতি নয়, বরং এক অকাল প্রয়াত হৃদয়ের বিদায়, যার কাছে মানুষের চেয়ে বড় কিছু ছিল না। শ্রীজাতর মায়ের মৃত্যুর দিন শুটিং ফেলে শ্মশানে ছুটে আসা সেই রাহুলকেই দু-মাস পরে কবির নিজের হাতে বিদায় জানাতে হয়, ঠিক সেই একই শ্মশানে। শ্রীজাত লিখেছেন, এমন নিষ্ঠুর চিত্রনাট্য কোনো চিত্রনাট্যকারের পক্ষেও লেখা আসাম্ভব। মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে কবির দুর্ঘটনার খবরে রাহুলের সেই আকুল বার্তা— ‘মরে যাব তো তোমার কিছু হলে’— আজও যেন কানে বাজে।
আজ আবার আর্জেন্টিনা মাঠে নামছে। সামনে বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি, কিন্তু গ্যালারির সেই পাগলাটে সমর্থক আজ আর টিভির সামনে নেই। রাহুলের দেওয়া মারাদোনার সেই টি-শার্টগুলো আলমারিতে তোলা থাকলেও, আর্জেন্টিনা জিতুক বা হারুক— প্রিয় বন্ধুর সাথে সেই আবেগের ভাগাভাগি করার সুযোগ আর নেই। শ্রীজাতর বিষণ্ণ প্রশ্ন আজও বাতাসে ভাসে, প্রিয় দলের জয়ের দিনে এবার তিনি কাকে ফোন করে কাঁদবেন।