মমতার খাসতালুকে বড়সড় ভাঙন! দক্ষিণ কলকাতা হাতছাড়া? বিদ্রোহী ব্লকে সই করছেন মালা রায়

লোকসভা এবং রাজ্যসভায় একের পর এক সাংসদ দলত্যাগের ধাক্কায় তৃণমূলের অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে, ঠিক তখনই এল সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা ও রাসবিহারীর মতো খাসতালুকে হারের পর, এবার খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র দক্ষিণ কলকাতা লোকসভাতেও বড়সড় ভাঙন। বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন দক্ষিণ কলকাতার প্রভাবশালী তৃণমূল সাংসদ মালা রায়।
কেন এই দলবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?
- দিল্লিতে মালা: মঙ্গলবার বিকেলে স্বামী নির্বেদ রায় ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দিল্লি গিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, বুধবারই তিনি ‘এনডিএ সমর্থক ব্লকে’ সই করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
- মমতার নখদর্পণে থাকা নেত্রী: কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন হিসেবে দক্ষিণ কলকাতার মাটি তাঁর নখদর্পণে। মালা রায়ের মতো প্রবীণ নেত্রীর বিদায় তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
- কোণঠাসা অভিষেক-মহুয়ারা: রাজনৈতিক মহলের মতে, মালা রায়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি ২০ জন সাংসদ ছাড়িয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায়। এর ফলে লোকসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা কার্যত সংখ্যালঘু বা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।
তৃণমূলের অস্তিত্ব কি বিপন্ন?
সোমবার রাত পর্যন্ত ১৬ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে বিদ্রোহের চিঠিতে সই করেছিলেন। সায়নী ঘোষের পর এবার মালা রায়ের নাম যুক্ত হওয়ায় মমতার মূল শিবির কার্যত একা হয়ে পড়ছে। কলকাতার নিচুতলার কর্মীদের কাছে এই খবর এক বিশাল ধাক্কা। পুর রাজনীতি থেকে লোকসভার অন্দরমহল—সবক্ষেত্রেই এর সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অভিষেক-মহুয়াদের এই ‘একলা’ হয়ে যাওয়ার লড়াই কি শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের পতনকে ত্বরান্বিত করবে? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।