সোনা পাপ্পু-জয় কামদার অতীত! এবার দক্ষিণ কলকাতায় ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর নতুন নাম ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’?

সোনা পাপ্পু-জয় কামদার অতীত! এবার দক্ষিণ কলকাতায় ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর নতুন নাম ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’?

গোপাল সাহা, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদল হলেও কাটছে না জমি মাফিয়াদের আতঙ্ক। সোনা পাপ্পু, জয় কামদার বা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর মনে করা হয়েছিল জমি দখল ও সিন্ডিকেট রাজের দাপট কমবে। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা উল্টো। দক্ষিণ কলকাতার সোনারপুর–নরেন্দ্রপুর চত্বরে এখন রমরমিয়ে চলছে এক নতুন সিন্ডিকেটের দাপট। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাজত্বের নতুন নাম ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’।

যেসব অভিযোগ তুলছে স্থানীয়রা:

  • পুকুর ভরাট: অভিযোগ, গড়িয়ার মহামায়াতলা, ফর্তাবাদ ও রথতলা এলাকায় একের পর এক জলাশয় বুজিয়ে চলছে বেআইনি নির্মাণ। টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেদার চলছে কাজ।
  • আঁতাত: স্থানীয়দের দাবি, গাঙ্গুলি গ্রুপের কর্ণধার অমিত গাঙ্গুলির সঙ্গে স্থানীয় থানার একাংশ আধিকারিকের গোপন আঁতাত রয়েছে। আর সেই শক্তির জোরেই আইনের তোয়াক্কা না করে চলছে জমি দখল।
  • রেকর্ড জালিয়াতি: অতীতে তৃণমূল জমানায় মোটা টাকার বিনিময়ে এলআর রেকর্ড পালটে জমি দখল করা হতো, সেই সংস্কৃতি এখনো বহাল রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

সংশ্লিষ্ট পূর্বের ঘটনাবলি:

জমি জবরদখল ও আর্থিক লেনদেন মামলায় এর আগেই ইডি-র জালে ধরা পড়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। সোনা পাপ্পু, জয় কামদার থেকে শুরু করে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলেছিল। তবুও থামেনি অপরাধ। বরং নতুন আঙ্গিকে সেই সিন্ডিকেটই এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন এই চক্র ভাঙতে স্বচ্ছ তদন্ত ও ইডি-র হস্তক্ষেপের দাবি তুলছেন।

আইপিএস অফিসারকে নিয়ে বিতর্ক:

সম্প্রতি এই গাঙ্গুলি গ্রুপের একটি আবাসন প্রকল্পে আইপিএস অফিসার শান্তি দাসের বিরুদ্ধে গুন্ডামির অভিযোগ তুলেছিল কো ম্পা নির কর্মীরা। অভিযোগ ছিল, ওই অফিসার কর্মীদের মারধর করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। উলটে, অফিসার শান্তি দাস দাবি করেছেন যে, তাকে ফাঁসানোর জন্য এটি একটি পরিকল্পিত মানহানির চেষ্টা। স্থানীয়দের একাংশও মারধরের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলেই মনে করছেন।

এখন দেখার বিষয়, নতুন জমানায় পুলিশ প্রশাসন এই ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধে আদৌ কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়, নাকি আগের মতো সব অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যায়। রাজ্যের জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই নতুন সংযোজন এখন প্রশাসনিক মহলে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *