জল নেই, হাহাকার! মার্কিন হামলায় ধ্বংস জলের ট্যাঙ্ক, তৃষ্ণার্ত ইরানে বাড়ছে যুদ্ধের আগুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! আমেরিকার হামলায় শুধু সামরিক ঘাঁটিনি নয়, নিশানা হলো সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার রসদও। ইরানের উপকূলীয় শহরে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ধ্বংসের ঘটনায় তৈরি হয়েছে তীব্র মানবিক সংকট। একদিকে জলহীন ইরানে হাহাকার, অন্যদিকে ড্রোন হানার পাল্টা জবাবে উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এবার ইরানকে রীতিমতো ‘শুকিয়ে মারার’ ছক কষছে ওয়াশিংটন।
কী ঘটছে সেই এলাকায়?
- জলের জন্য হাহাকার: ইরানের সিরিক শহরের বামানি জেলায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি বড় পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ধুলোয় মিশে গিয়েছে। খাবার জল না পেয়ে তৃষ্ণার্ত স্থানীয় বাসিন্দারা দিশেহারা। ভারতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস এই ঘটনাকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, নিরীহ নাগরিকদের এভাবে জলবঞ্চিত করা যুদ্ধের নতুন এক ভয়ানক কৌশল।
- মার্কিন ‘আত্মরক্ষা’: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের’ উপযুক্ত জবাব দিতেই হরমোজগান প্রদেশের কোহেস্তাক, মিনাব ও বন্দর আব্বাসের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরানের বিধ্বংসী পাল্টা জবাব:
মার্কিন এই হামলার পর ইরান বসে থাকেনি। আইআরজিসি (IRGC)-র তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ২:৩০ মিনিট নাগাদ বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন নৌবহর লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন আছড়ে ফেলা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, হরমুজ প্রণালীর কাছে আমেরিকার অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ (MQ-9) ড্রোনটিও ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান।
যুদ্ধের আগুন কোথায় পৌঁছাবে?
আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারি, “শত্রুর প্রতিটি হামলার জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত। এই যুদ্ধ এখন আর থামাথামির জায়গায় নেই। আমেরিকা যদি আবার আক্রমণ করে, তবে তার জবাব হবে আরও ভয়ংকর।”
দুই দেশের এই প্রতিশোধমূলক লড়াই পুরো অঞ্চলকে এক চরম বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। খাবার জল নেই, তার ওপর ড্রোনের আর্তনাদ—ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনে এখন শুধু আতঙ্ক আর যুদ্ধের ছায়া। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল।