ইজরায়েলি জেলে নরকযন্ত্রণা! বন্দিদের ধর্ষণ, কুকুর লেলিয়ে নির্যাতন; ভয়াবহ তথ্যচিত্র ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

ইজরায়েলি জেলে নরকযন্ত্রণা! বন্দিদের ধর্ষণ, কুকুর লেলিয়ে নির্যাতন; ভয়াবহ তথ্যচিত্র ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

প্যালেস্তিনীয় বন্দিদের জন্য ইজরায়েলের জেলখানা যেন এক জীবন্ত নরক। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি তথ্যচিত্র ‘বডিজ অফ এভিডেন্স: ইসরায়েল’স ডার্কেস্ট ওয়েপন’ (Bodies of Evidence: Israel’s Darkest Weapon) প্রকাশ্যে আসার পর ইজরায়েলি জেলের অমানবিক ও নৃশংস নির্যাতনের চিত্রটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বন্দিদের ওপর অকথ্য যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ এবং কুকুর লেলিয়ে ক্ষতবিক্ষত করার মতো ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েলি সেনা ও কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে।

তথ্যচিত্রে উঠে আসা ভয়াবহ অভিজ্ঞতাসমূহ:

  • অমানবিক নির্যাতন: জেল থেকে মুক্তি পাওয়া দুই বন্দি, আল-বাকরি ও জব (নাম পরিবর্তিত), তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। আল-বাকরি জানান, ২০২৪ সালের ইদের দিনে তাঁকে এবং আরও সাত বন্দিকে নগ্ন করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়। এরপর ইজরায়েলি সেনা ও মহিলা কারারক্ষীরা মিলে তাঁদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ চালায়।
  • কুকুরের নৃশংস ব্যবহার: আল-বাকরির অভিযোগ, বন্দিদের নগ্ন করে মাটিতে শুইয়ে রেখে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হতো। কুকুরের কামড়ে বন্দিদের যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করার দৃশ্য ইজরায়েলি সেনারা অট্টহাসি হেসে উপভোগ করত এবং তার ভিডিও রেকর্ড করত।
  • কৃত্রিম অঙ্গের ব্যবহার: গাজার বাসিন্দা জব জানিয়েছেন, এক মহিলা সেনা আধিকারিক কৃত্রিম অঙ্গ (artificial objects) ব্যবহার করে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ যৌন নির্যাতন করেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য সেনারা সেই দৃশ্য দেখে হাততালি দিত ও ভিডিও করত।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রেক্ষাপট: ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইজরায়েলি জেলে বন্দিদের ওপর এই ধরনের নির্যাতন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। এই সব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রাষ্ট্রসংঘ যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে যৌন হিংসার জন্য ইজরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করে।

ইজরায়েলের অন্দরে বিতর্ক: ২০২৪ সালের জুলাই মাসে নেগেভ মরুভূমির একটি ক্যাম্পে বন্দিদের গণধর্ষণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেই ঘটনায় ১০ নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হলেও, পরবর্তীতে ইজরায়েলের ডানপন্থী সংগঠন ও আইন প্রণেতাদের চাপে তাঁদের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। উল্টে ভিডিও ফাঁস করার অভিযোগে উল্টো ইজরায়েলি মেজর জেনারেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, ইজরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বও এই অমানবিকতাকে সরাসরি সমর্থন জোগাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংসদে হানোখ মিলভিদস্কি নামক এক এমপি খোলাখুলি মন্তব্য করেছিলেন যে, “হামাস যোদ্ধা হলে তাদের সঙ্গে যা খুশি করা আইনসম্মত।” রাষ্ট্রসংঘের দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের মতে, এই ধরনের উস্কানিমূলক ভাষা আসলে বন্দিদের ‘পশু’ প্রমাণ করে গণহত্যা ও নিপীড়নকে বৈধতা দেওয়ার একটি ঘৃণ্য কৌশল মাত্র।

এই তথ্যচিত্র প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ইজরায়েলি জেলের এই নারকীয় ঘটনা আধুনিক সভ্যতায় এক বড় লজ্জার অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *