“ফাস্ট নাইটেই হয়নি শারীরিক মিলন, তাহলে সন্তান এল কী করে?” বিয়ের ২ বছর পর মা হতেই বিস্ফোরক স্বামী!

নিউজ ডেস্ক: বিয়ের দুই বছর পর মা হলেন স্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারে আনন্দের জোয়ার আসার কথা ছিল। কিন্তু ঘটল উল্টোটা! নবজাতকের পিতৃত্ব অস্বীকার করে রীতিমতো বোমা ফাটালেন স্বামী। বরেলিতে ঘটা এই অদ্ভুত পারিবারিক বিবাদ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ঠিক কী দাবি স্বামীর?
উত্তরপ্রদেশের বরেলির ইজ্জতনগর এলাকার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে, বিয়ের পর তাঁদের মধ্যে কখনও শারীরিক সম্পর্ক (ফাস্ট নাইট) তৈরি হয়নি। তাঁর দাবি, “আমরা শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় লিপ্তই হইনি, তাহলে সন্তান জন্মাল কী করে?” এই যুক্তিতেই তিনি সন্তানকে নিজের বলে স্বীকার করতে অস্বীকার করেছেন এবং স্ত্রীর চরিত্রের দিকে আঙুল তুলেছেন।
পাল্টা তোপ স্ত্রীর, ফাঁস যৌতুকের রহস্য:
স্ত্রীর অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করার জন্য এই মিথ্যা ছড়াচ্ছেন। তিনি পুরো বিষয়টিকে যৌতুক সংক্রান্ত হয়রানির একটি অংশ বলে দাবি করেছেন।
স্ত্রীর বয়ানে উঠে এল ভয়ঙ্কর সব তথ্য:
- শাশুড়ির মধ্যস্থতা: স্ত্রী জানিয়েছেন, বিয়ের পর প্রথম দুদিন স্বামী শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গড়িমসি করেছিলেন এবং শাশুড়ির প্ররোচনায় যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। শেষে শাশুড়ির মধ্যস্থতাতেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।
- সম্পত্তি থেকে বহিষ্কার: ঘটনার কিছুদিন পর স্বামীর পরিবার তাঁদের সম্পত্তি থেকে বের করে দেয়। এরপর তারা বাধ্য হয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
- মারধর ও অত্যাচার: স্ত্রীর অভিযোগ, ভাড়া বাড়িতে স্বামী নিয়মিত মদ্যপ অবস্থায় ফিরত এবং অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করত।
- পালালো স্বামী: অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যখন তিনি মা হওয়ার পথে, তখন স্বামী আচমকাই তাঁকে ভাড়া বাড়িতে একা ফেলে বাপের বাড়িতে পালিয়ে যায়।
আইনি পদক্ষেপ:
ইজ্জতনগর থানায় স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে যৌতুক ও গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নারী। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড় এবং স্ত্রীর চরিত্রের ওপর ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে যাচ্ছেন। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
বিয়ের দুই বছর পর সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে এমন টানাপোড়েন এখন গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।