অভিনেতা রাহুলের মৃত্যুতে সোজা পিএমও-র হস্তক্ষেপ!

কলকাতা: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে এবার তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি ও বিনোদন দুনিয়া। শুটিং সেটে ঠিক কার গাফিলতিতে প্রাণ গেল অভিনেতার? এই প্রশ্ন ঘিরেই এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সর্বভারতীয় চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠনের দায়ের করা অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ওড়িশা সরকারকে দ্রুত তদন্ত ও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ পাঠিয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)।
সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন নূন্যতম কোনো নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি। চরম গাফিলতির জেরেই প্রাণ হারাতে হয়েছে রাহুলকে। এই ঘটনায় ওড়িশা সরকারের কাছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
কাঠগড়ায় লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, ব্ল্যাকলিস্টের দাবি:
দায়ের করা অভিযোগে সরাসরি নাম জড়িয়েছে টলিউডের নামী প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁদের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’-এর। সংগঠনের দাবি, শুটিং সেটে নিরাপত্তা বিধি উড়িয়ে দেওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত প্রযোজক ও সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে খুনসহ একাধিক কঠোর ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু করার দাবি তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সংস্থাকে চিরতরে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করার আর্জিও জানানো হয়েছে।
অ্যাকশনে মোদী সরকার, বালেশ্বরে তদন্ত:
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কড়া নির্দেশের পরই নড়েচড়ে বসেছে ওড়িশা প্রশাসন। পিএমও-র চিঠি সরাসরি পাঠানো হয়েছে বালেশ্বর জেলার পুলিশ সুপারের কাছে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দ্রুত অ্যাকশন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠনের স্পষ্ট বার্তা, রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচারে আর কোনো বিলম্ব সহ্য করা হবে না। আজ যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তবে ভবিষ্যতে সাধারণ জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে শুরু করে মূল তারকাদের জীবনও এভাবেই ঝুঁকির মুখে পড়বে। মোদী সরকারের এই সরাসরি হস্তক্ষেপে এখন ব্যাকফুটে ওড়িশা পুলিশ ও টলিউডের সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা।