আবাস প্রকল্পে স্বচ্ছতার নজির: রাজ্যে চালু ‘সেল্ফ সার্ভে’, উপভোক্তা বাছাইয়ে কঠোর নিয়ম

আবাস প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকারের এই ‘সেল্ফ সার্ভে’ বা স্ব-সমীক্ষা পদ্ধতির উদ্যোগটি একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নবান্নের এই নতুন নির্দেশিকা ও ত্রিস্তরীয় যাচাই ব্যবস্থার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
আবাস প্রকল্পে স্বচ্ছতা: ‘সেল্ফ সার্ভে’ ও ত্রিস্তরীয় যাচাইয়ের নির্দেশ নবান্নের
গ্রামীণ আবাস প্রকল্পে উপভোক্তা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই নতুন স্ব-সমীক্ষা পদ্ধতির রূপরেখা তৈরি করেছে।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন পদ্ধতি?
- অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন: আবেদনকারীদের তাদের মোবাইল ফোনে ‘আবাসপ্লাস ২০২৪’ (AwasPlus 2024) এবং ‘আধারফেস আরডি’ (AadhaarFaceRD) অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমেই তারা আবেদন জমা দিতে পারবেন।
- সহায়তা: প্রযুক্তিগত সমস্যায় থাকা বা অ্যাপ ব্যবহারে অক্ষম মানুষদের জন্য সার্ভেয়াররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের বিশেষ ব্যবস্থাও রেখেছেন।
ত্রিস্তরীয় যাচাই ব্যবস্থা (Three-Tier Verification):
উপভোক্তা তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার বাধ্যতামূলক ত্রিস্তরীয় যাচাইয়ের নিয়ম চালু করেছে:
১. ব্লক বা মহকুমা স্তরের যাচাই: অন্তত ১০ শতাংশ পরিবারের তথ্য ব্লক বা মহকুমা স্তরের আধিকারিকদের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করা হবে।
২. পৃথক পর্যালোচনা: ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্লক স্তরের আধিকারিকদের দ্বারা আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
৩. জেলা স্তরের যাচাই: ২ শতাংশ ক্ষেত্রে জেলা স্তরের আধিকারিকদের সরাসরি পরিদর্শন ও যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
লক্ষ্য ও সময়সীমা:
- স্বচ্ছতা: রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ দূর করা এবং যোগ্য ব্যক্তিকে চিহ্নিত করাই এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য।
- সময়সীমা: নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে সমগ্র সমীক্ষা এবং যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
এই কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আবাস প্রকল্পে দুর্নীতির সম্ভাবনা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।