‘আমরা তো আর দুনিয়ার মালিক নই!’ বিশ্বকাপের আগে আমেরিকার ভিসা-বিতর্কে হাত ধুয়ে ফেলল ফিফা

ওয়াশিংটন: বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগেই আমেরিকাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক! বাইডেন প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতি এবং ভিসা নিয়ে চরম কড়াকড়ির জেরে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে এবার বিতর্ক থেকে পুরোপুরি গা বাঁচাল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA)। সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো, এই বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই।
বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট বলেন, “আপনারা বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আমরা সব সমস্যার সমাধান করতেই চাই। কিন্তু আমরা তো আর গোটা বিশ্বের শাসক নই! আয়োজক দেশ নিরাপত্তা বা ভিসা নিয়ে কী নিয়ম ঠিক করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা একটা ক্রীড়া সংস্থা, আমাদের কাজ মাঠের খেলা ঠিকঠাক পরিচালনা করা। বাকি বিষয়ে আমাদের হাত বাঁধা।”
এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে সোমালিয়ার রেফারি ওমার আর্টানের ঘটনা। ফিফার অফিশিয়াল রেফারিদের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও আমেরিকায় পা রাখামাত্রই তাঁকে দেশে ঢুকতে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সূত্র মারফত খবর, জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্রের সন্দেহে আমেরিকার এই পদক্ষেপ। এই প্রসঙ্গে সুর নরম করে ইনফান্তিনো বলেন, “ওমারের সঙ্গে যা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আলোচনা করছি। সবাইকে বলব মাথা ঠান্ডা রাখুন, আরাম করুন। অনেক সময় চিৎকার-চেঁচামেচি বা বিরোধিতা করলে হিতে বিপরীত হয়। আশা করছি সমস্যার সমাধান হবে।”
আমেরিকার এই একগুঁয়েমি আচরণের মাঝেও অবশ্য নিজেদের এক বড় ‘সাফল্য’-এর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ফিফা প্রধান। অতীতে ইরান বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিলেও, ফিফার মধ্যস্থতাতেই তারা শেষ পর্যন্ত আমেরিকায় খেলতে রাজি হয়েছে। ইনফান্তিনোর দাবি, “আমরা দুই দেশের সঙ্গেই কথা বলে বুঝিয়েছি যে ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।”
যদিও বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার বরফ পুরোপুরি গলেনি। জানা গেছে, ইরানি ফুটবলারদের শিবির আমেরিকা থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি আমেরিকায় ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের দেশ ছাড়ার ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, তাদের বহু ফুটবল কর্তাকে ভিসাই দেওয়া হয়নি, উপরন্তু ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ টিকিটও নাকি বাতিল করেছে খোদ ফিফা! এই চরম বিশৃঙ্খলার মাঝেই আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়ে কার্যত নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেললেন ফিফা প্রধান।