পানীয় জল প্রকল্পে কোটি টাকার দুর্নীতি! ঠিকাদারকে ব্ল্যাকলিস্ট ও এফআইআর-এর নির্দেশ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার
জলপাইগুড়িতে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার সরকারি প্রকল্পের বেহাল দশা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আসাম্পূর্ণ থাকায়, সরাসরি ঠিকাদার সংস্থাকে ব্ল্যাকলিস্ট করার এবং তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী।
কী এই দুর্নীতি?
২০১৭-১৮ আর্থিক বর্ষে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল জলপাইগুড়ি পুরসভার বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহের প্রকল্পে। মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট (MED)-এর তত্ত্বাবধানে চলা এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ২০২৩ সালের মার্চ মাস। কিন্তু অভিযোগ, সময়সীমা পেরিয়ে আরও তিন বছর কেটে গেলেও এখনও ৫০ শতাংশ পরিবার এই পানীয় জলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।
মন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ:
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি সার্কিট হাউসে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন:
- ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কাজ শেষ না করার জন্য দায়বদ্ধ ঠিকাদার সংস্থাকে অবিলম্বে ব্ল্যাকলিস্ট করা হচ্ছে। পাশাপাশি, থানায় এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- অনলাইন ভেরিফিকেশন: যে ১৬ হাজার পরিবার জল পেয়েছে এবং যারা পাওয়ার মুখে রয়েছে, তারা প্রকৃত উপভোক্তা কি না তা খতিয়ে দেখতে সমস্ত প্রক্রিয়া অনলাইনে করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
- স্বচ্ছতা: এত বছরেও প্রকল্পের সুবিধা কেন মানুষের কাছে পৌঁছল না, সেই প্রশ্ন তুলে পুরো বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পুরসভার অন্যান্য সমস্যা:
শুধু জল প্রকল্পই নয়, এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে শহরের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন পুরমন্ত্রী:
- পার্কিং ও টয়লেট: শহরের পার্কিং ব্যবস্থা এবং পাবলিক টয়লেট সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য জেলাশাসক ও পুরকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট: বালাপাড়ার ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প নিয়ে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে যে দেরি হচ্ছে, তা মিটিয়ে জুলাইয়ের শুরুতেই কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
প্রশাসনিক মহলের মতে, মন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপের ফলে পুরসভার কাজে দীর্ঘদিনের গাফিলতি ও দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হতে পারে। এখন দেখার, এই নির্দেশের পর কত দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।