জোড়া ফলায় বিদ্ধ অভিষেক! সই জালের পর এবার ডিজে মামলার তদন্তেও সিআইডি

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য। জোড়া মামলার তদন্তভার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির হাতে যাওয়ায় কার্যত সাঁড়াশি চাপে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলার পাশাপাশি এবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিতর্কিত ‘ডিজে’ মন্তব্যের মামলার তদন্তও করবে সিআইডি।
বিতর্কের সূত্রপাত ও মামলার হস্তান্তর
নির্বাচন প্রচারের একাধিক সভা থেকে অভিষেক মন্তব্য করেছিলেন, ফল ঘোষণার পর রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি ডিজেও বাজানো হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়েও মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই জোড়া মন্তব্যের জেরে বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশি তদন্ত শুরু হলেও বর্তমানে এই মামলার যাবতীয় নথিপত্র এবং ফেসবুক ও অন্যান্য ভিডিও লিঙ্ক সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে যাওয়ায় অভিষেকের আইনি অস্বস্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেল।
আদালতের কড়া নির্দেশ ও সম্ভাব্য প্রভাব
অন্যদিকে, সই জালিয়াতি কাণ্ডে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কিন্তু বারবার হাজিরা এড়ানোর কারণে বিচারপতি কৌশিক চন্দের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। আদালত তাঁকে ২১ দিনের রক্ষাকবচ দিলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে সিআইডি দপ্তরে হাজিরার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। এই ঘটনাপ্রবাহের জেরে অভিষেকের রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে আইনি লড়াইয়ের জোড়া চাপ এবং অন্যদিকে আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ— দুই দিক থেকেই আগামী দিনগুলো তাঁর জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।