দুর্নীতি রুখতে এবার কড়া নজর, ১২৫ দিনের কাজ মিলবে না ফেস অথেন্টিকেশন ছাড়া!

১০০ দিনের কাজের গণ্ডি পেরিয়ে এবার ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দিচ্ছে কেন্দ্র। তবে এই বাড়তি সুবিধা পেতে জব কার্ড হোল্ডারদের পার হতে হবে ডিজিটাল পরীক্ষার কঠিন ধাপ। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তার হাতে পৌঁছে দিতে এখন থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জব কার্ড হোল্ডারদের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া।
প্রযুক্তিই এখন দুর্নীতির ঢাল
এতদিন কাজের উপস্থিতি বা মাস্টার রোল ম্যানুয়ালি পূরণ করা হতো, যার ফলে বেনামি শ্রমিক বা ভুয়া জব কার্ডের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ থেকে যেত। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার থেকে এনএমএমএস (NMMS) মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে উপভোক্তার ‘ফেস অথেন্টিকেশন’ বা মুখের ছবি তুলে পরিচয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক। মূলত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই প্রকৃত উপভোক্তা কি না, তা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। এই বায়োমেট্রিক পদ্ধতি পাসওয়ার্ড বা আঙুলের ছাপের মতোই সুরক্ষিত, যা কোনোভাবেই জাল করা সম্ভব নয়। আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘বিকশিত ভারত-রোজগার ও আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পে কাজ পাওয়ার জন্য এই ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা এখন অপরিহার্য।
নতুন প্রকল্পের বিশেষত্ব ও প্রভাব
এই নতুন প্রকল্পে জব কার্ড হোল্ডারদের কৃষি মরশুমের বাইরে অন্তত ৬০ দিন নিশ্চিত কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের তুলনায় এই প্রকল্পের তদারকি ব্যবস্থা অনেক বেশি কড়া। রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে কাজের নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলবে। এছাড়া প্রকল্পের কাজ ‘যুক্তিধারা’ পোর্টালে নথিভুক্ত করার পর এনআরইজিএ সফট-এ উপলব্ধ হবে। তবে জঙ্গলমহল বা পাহাড়ি এলাকার মতো যেসব অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল বা মোবাইল শ্যাডো জোন রয়েছে, সেখানে এই ডিজিটাল প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সঠিক তথ্য যাচাই ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে প্রান্তিক শ্রমিকদের কাজের অধিকার আরও সুনিশ্চিত হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।