ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে মার্কিন হামলা! প্রকাশ্যে এল রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের কথোপকথন

ওমান উপকূলে ২৪ জন ভারতীয় নাবিকবাহী একটি বাণিজ্যতরীতে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মাদাগাস্কারের পতাকাবাহী ‘এমটি মারিভেক্স’ নামের জাহাজটি ভারতের কর্নাটকের কারওয়ার থেকে ওমানের দুকাম অভিমুখে রওনা হয়েছিল। গত সোমবার হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে মার্কিন সেনার গোলাবর্ষণের মুখে পড়ে জাহাজটি। সাগরেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা ওই জাহাজটিতে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় চরম প্রাণনাশের আশঙ্কা।
রুদ্ধশ্বাস বাঁচার আকুতি
হঠাৎ এই হামলার পর পরই জাহাজে থাকা আতঙ্কিত কর্মীরা সাহায্যের জন্য আপৎকালীন বার্তা পাঠান। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক জাহাজকর্মী সেসময় জানান, তাঁদের জাহাজটিতে ভয়ঙ্কর আগুন লেগে গেছে এবং তা ডুবতে শুরু করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি তাদের জাহাজে হামলা চালিয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র সোজা ইঞ্জিন রুমে আঘাত হানায় তলার অংশ ফুটো হয়ে জল ঢুকতে শুরু করে। জাহাজে আটকে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে দ্রুত উদ্ধারের কাতর আবেদন জানান ওই কর্মী। পরবর্তীতে ওমান সেনার সাহসিকতা ও তৎপরতায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মার্কিন যুক্তি ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব
ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মাথায় হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, যুদ্ধাবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ জারি রয়েছে। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে বাণিজ্যতরীটি ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। যার ফলে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ থেকে যুদ্ধাস্ত্র ছুড়ে হামলা চালানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাশাপাশি, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী সাধারণ জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।