কোনো প্রিমিয়াম ছাড়াই মিলবে ৭ লক্ষ টাকার জীবন বিমা! বেসরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বড় খবর

বেসরকারি খাতে কর্মরত বেশিরভাগ মানুষই জানেন না যে, তাঁরা এক পয়সাও খরচ না করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিমা সুরক্ষা পেতে পারেন। এর জন্য কোনও ধরনের অর্থ বিনিয়োগ বা প্রিমিয়াম দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। মূলত কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল বা ইপিএফও-এর সদস্যরা এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। অসচেতনতার কারণেই বহু কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার এই সরকারি সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।
ইডিএলআই স্কিম ও বিমার পরিমাণ
ইপিএফও তাদের সদস্যদের জন্য এমপ্লয়ি ডিপোজিট লিঙ্কড ইন্স্যুরেন্স বা ইডিএলআই স্কিম পরিচালনা করে। এটি মূলত একটি জীবন বিমা, যা কর্মরত অবস্থায় কোনও কর্মচারীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এই স্কিমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর সম্পূর্ণ খরচ বহন করে সংশ্লিষ্ট কো ম্পা নি বা নিয়োগকর্তা। চাকরিরত অবস্থায় কোনো ইপিএফ সদস্যের মৃত্যু হলে সর্বনিম্ন আড়াই লক্ষ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সাত লক্ষ টাকা পর্যন্ত এককালীন বিমা সুবিধা দেওয়া হয়। কর্মচারীর বেতন এবং পিএফ অ্যাকাউন্টের গড় ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে এই অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।
প্রয়োজনীয় শর্ত ও দাবির প্রক্রিয়া
এই সুবিধা পাওয়ার জন্য মূল শর্ত হলো পিএফ অ্যাকাউন্টে নমিনির তথ্য সঠিক ও আপডেট থাকা। এছাড়া সম্প্রতি ইপিএফও সতর্ক করেছে যে, শুধুমাত্র ই-নমিনেশন জমা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, আধার ব্যবহার করে তাতে ই-স্বাক্ষর করাও বাধ্যতামূলক। অন্যথায় নমিনির টাকা উত্তোলনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে নমিনিকৃত ব্যক্তি বা আইনসম্মত উত্তরাধিকারীকে ফর্ম ৫আইএফ, ডেথ সার্টিফিকেট, নমিনির পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং ইউএএন নম্বরসহ আঞ্চলিক পিএফ অফিসে আবেদন করতে হয়। সঠিক নথিপত্র জমা দেওয়ার পর সাধারণত ত্রিশ দিনের মধ্যে দাবিকৃত অর্থ সরাসরি নমিনির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়।
সামাজিক সুরক্ষার অভাব এবং প্রিয়জনের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট দূর করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি কর্মীরা যেমন ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পান, তেমনি তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরাও চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা লাভ করেন।