তৃণমূলের ২০ সাংসদ এনডিএ-তে, জাতীয় রাজনীতিতে বড় চমক!

তৃণমূলের ২০ সাংসদ এনডিএ-তে, জাতীয় রাজনীতিতে বড় চমক!

জাতীয় রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পটপরিবর্তন ঘটতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন। এই ঘটনা শুধু শাসক জোটের শক্তিই বাড়ায়নি, বরং দেশের সংসদীয় রাজনীতির হিসাব-নিকাশও আমূল বদলে দিয়েছে। স্পিকারের অনুমোদন পেলে এটি বর্তমান লোকসভার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলবদল হিসেবে পরিগণিত হবে।

অব্যাহত এনডিএ-র জয়রথ ও নির্ভরতা হ্রাস

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ম্যাজিক ফিগার না পাওয়ায় সরকার পরিচালনা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। জোটের শরিক চন্দ্রবাবু নাইডু ও নীতীশ কুমারের ওপর নির্ভরতা থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই কৌশলগত চাপে ছিল পদ্ম শিবির। তবে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ এনডিএ-তে যুক্ত হওয়ায় জোটের আসন সংখ্যা ২৯২ থেকে বেড়ে ৩১২-তে পৌঁছেছে। এর ফলে তিনশোর গণ্ডি পেরিয়ে শাসক জোট যেমন স্বস্তিতে রয়েছে, তেমনই আঞ্চলিক শরিকদের ব্ল্যাকমেলের রাজনীতি বা দরকষাকষির ক্ষমতাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

মিশন ৩৬২ ও পরবর্তী লক্ষ্য

আসন সংখ্যা তিনশোর বেশি হলেও মোদি সরকারের আসল লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি। মহিলা সংরক্ষণ বিল বা এক দেশ এক ভোটের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী অনায়াসে পাস করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৬২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। ৩১২ আসনে পৌঁছেও এনডিএ সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে ৫০টি আসন দূরে রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে এবং বড় মাপের বিলগুলো পাশ করাতে বিজেপি আগামী দিনে কংগ্রেস, উদ্ধব শিবির বা এনসিপি-র বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নিশানা করতে পারে। এমনকি রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়িয়ে ‘অপারেশন লোটাস’-এর মতো কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *