আর জি করের সত্যিটা সিবিআইকে জানান! বিদ্রোহী সতীর্থদের বেনজির চ্যালেঞ্জ কল্যাণের

আর জি করের সত্যিটা সিবিআইকে জানান! বিদ্রোহী সতীর্থদের বেনজির চ্যালেঞ্জ কল্যাণের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জেরে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন বিদ্রোহী ও দলবদলু নেতাদের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়লেন শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং ডঃ শর্মিলা সরকারকে নিশানা করে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সোমবার দিল্লিতে লোকসভার সংসদীয় দল হাতছাড়া হওয়ার পর এবং ২০ জন সাংসদের এনডিএ-তে যোগদানের আবেদনের প্রেক্ষিতে কল্যাণের এই আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপি আপনাদের নেবে না

সংবাদমাধ্যমের সামনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী নেতাদের ‘সুখের পায়রা’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ক্ষমতার স্বাদ নিতে অভ্যস্ত এই নেতারা এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে মরিয়া। তবে তাদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রবীণ এই সাংসদ বলেন, নারদা কাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্নীতির রিপোর্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে রয়েছে, তাই বিজেপির পক্ষে তাদের দলে নেওয়া আসাম্ভব। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০১১ সালের পর দলে আসা এই নেতারা কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় করেছেন এবং বিপদের দিনে দলত্যাগ করে নিজেদের স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়েছেন।

আর জি কর বিতর্ক ও সিবিআইয়ের দিকে আঙুল

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ ছিল আর জি করের অভয়া কাণ্ড নিয়ে। ঘটনার সময় ওই দুই চিকিৎসক সাংসদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ জানান। কল্যাণ বলেন, তাদের যদি কোনো ক্ষোভ বা প্রকৃত সত্য জানা থাকে, তবে তারা যেন তা সিবিআইকে জানান। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আর জি কর ইস্যুতে তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা তথ্য গোপনের পুরনো বিতর্কটিকে পুনরায় উস্কে দিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের অবস্থানে অটল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলেও, কল্যাণের এই মন্তব্য তৃণমূলের ভেতরের অনেক না বলা রহস্যকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *