তৃণমূল ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে সাক্ষাতে তুঙ্গে পদ্ম যোগের জল্পনা

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই সংকটের মুখে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর এবার রাজ্যসভাতেও বড় আঘাত নেমে এল। দল ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন হেভিওয়েট নেত্রী সুস্মিতা দেব। সংসদীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি। এই ঘটনার পরপরই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে তাঁর সশরীরে সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতে তৃণমূলের অস্বস্তি
আসামের প্রভাবশালী রাজনীতিক সন্তোষমোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা দেবকে তৃণমূল নেতৃত্ব উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের সংগঠন বিস্তারের প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে নিযুক্ত করেছিল। ত্রিপুরা ও আসামে ঘাসফুল শিবিরের ভিত শক্ত করার লক্ষ্যে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল। তবে সুস্মিতার এই আচমকা প্রস্থান দলের সেই রণকৌশলকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও বিধায়ক ও সাংসদদের ভাঙন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকেই প্রকট করে তুলেছে।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
সুস্মিতা দেবের ইস্তফা এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তিনি আগামী দিনে গেরুয়া শিবিরে যোগদানের পথই বেছে নিয়েছেন। আসামের বরাক উপত্যকায় দেব পরিবারের যে দীর্ঘদিনের প্রভাব ও ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, তা বিজেপির দখলে এলে উত্তর-পূর্বে তৃণমূলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়বে। সুস্মিতার এই পদক্ষেপকে হিমবাহের চূড়া বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল; তাদের আশঙ্কা, আগামী দিনগুলিতে তৃণমূলের আরও অনেক সাংসদই বিজেপি বা অন্য কোনো শিবিরে যোগ দিয়ে দলের শক্তি আরও কমিয়ে দিতে পারেন।