বিশ্বকাপের আগে আমেরিকায় নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি, মাঠেই ফাঁস লিওনেল মেসিদের পাসপোর্টের তথ্য!

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগেই বড়সড় নিরাপত্তা ও অব্যবস্থাপনার বিতর্কে জড়াল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চরম গাফিলতিতে এবার লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার পুরো ফুটবল দলের চূড়ান্ত গোপনীয় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমে মাঠের ভেতরে যখন স্বস্তির জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা, ঠিক তখনই মাঠের বাইরে এই নজিরবিহীন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বে।
মাঠে স্বস্তি, মাঠের বাইরে চরম বিপর্যয়
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় গত মে মাসে পাওয়া চোট কাটিয়ে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৭০ মিনিটে মাঠে নামেন মেসি। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষ হতেই আর্জেন্টিনা শিবিরে নেমে আসে চরম দুঃসংবাদ। জানা গেছে, স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৮৮ হাজার দর্শকের সামনে প্রকাশিত অফিসিয়াল টিম লিস্টে আর্জেন্তিনীয় ফুটবলারদের পাসপোর্টের সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য উন্মুক্ত ছিল। নিয়ম অনুযায়ী টিম লিস্ট প্রকাশের আগে এই পাসপোর্ট সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য মুছে ফেলার কথা থাকলেও, আয়োজকদের চরম অবহেলার কারণে তা অপরিবর্তিতই রয়ে যায়। ফলে গ্যালারির হাজার হাজার মানুষের সামনে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত তথ্য চলে আসে।
ঝুঁকিতে তারকাদের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের তারকা ফুটবলারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সাইবার সুরক্ষাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। এই ডিজিটাল যুগে পাসপোর্টের মতো স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ফুটবলাররা পরিচয় জালিয়াতি বা সাইবার অপরাধের শিকার হতে পারেন, যা মেগা টুর্নামেন্টের মাঝে তাদের মানসিক অবস্থা ও মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফিফা বা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, এই ঘটনা আয়োজক হিসেবে আমেরিকার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এর আগে সোমালিয়ার রেফারিকে ফেরত পাঠানো, ইরাকের ফুটবলারকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে জেরা করা এবং সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের কুকুর দিয়ে তল্লাশি করার মতো একাধিক বিতর্কিত ঘটনার পর মেসিদের তথ্য ফাঁসের এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।