যেমন কর্ম তেমন ফল! বেহাল রাস্তার যন্ত্রণা বোঝাতে ঠিকাদারকে দিয়ে ৪.৫ কিমি সাইকেল চালালেন গ্রামবাসীরা

দাঁতন: বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি রাস্তা তৈরির কাজ! চারদিকে শুধু খানাখন্দ আর উড়ছে ধুলো। ভাঙা রাস্তায় সাইকেলের চাকা পিছলে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে স্কুলপড়ুয়ারা। বারবার জানিয়েও কাজ না হওয়ায় শেষমেশ অভিনব ‘গান্ধীগিরি’র পথ বেছে নিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের বাসিন্দারা। খারাপ রাস্তার কষ্ট ঠিক কেমন, তা হাড়েমজ্জায় বোঝাতে খোদ ঠিকাদারকেই জোর করে ভাঙা রাস্তায় সাড়ে চার কিলোমিটার সাইকেল চালানো হল!
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দাঁতন-১ ব্লকের সাবড়া থেকে মনোহরপুর রেলগেট পর্যন্ত সাড়ে ১২ কিলোমিটার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়েছিল। রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় ৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয় এবং ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এর ওয়ার্ক অর্ডারও মেলে। কিন্তু অভিযোগ, এক বছর পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। কাজিপাড়া থেকে মনোহরপুর রেলগেট পর্যন্ত খোয়া আর ডাস্ট ফেলে রেখে দেওয়া হয়েছে। সামান্য হাওয়া দিলেই ডাস্ট উড়ে জামাকাপড় নোংরা হচ্ছে, ছোট ছোট পাথর লেগে উল্টে পড়ছে খুদে পড়ুয়াদের সাইকেল।
মানুষের ক্ষোভ যখন চরমে, ঠিক তখনই মঙ্গলবার এলাকায় পা রাখেন ঠিকাদার রবি সেনা। তাঁকে দেখেই ঘিরে ধরেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। রাগ দেখিয়ে মারধর বা ডিম ছোড়ার চেনা পথে না হেঁটে, গ্রামবাসীরা তাঁকে একটি সাইকেলে তুলে দেন। এরপর কাজীপাড়া থেকে মনোহরপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটারের সেই নরক যন্ত্রণার রাস্তায় এলাকার যুবকদের সাথে সাইকেল চালাতে বাধ্য হন ওই ঠিকাদার। এই দৃশ্য দেখতে রাস্তায় ভিড় জমে যায় সাধারণ মানুষের।
অবশেষে সাইকেল চালানো থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে ভুল স্বীকার করেন ঠিকাদার রবি সেনা। তিনি জানান, এলাকার কিছু সমস্যা এবং শ্রমিকদের দেরির কারণেই কাজ আটকে ছিল। তবে মানুষের কষ্ট তিনি বুঝতে পেরেছেন এবং আগামী দুই মাসের মধ্যেই রাস্তা নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে কেশিয়াড়ির বিজেপি বিধায়ক ভদ্র হেমব্রম বলেন, “রাস্তাটি আসাম্পূর্ণ থাকায় সত্যিই মানুষের চূড়ান্ত সমস্যা হচ্ছে। আমি আগেই ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করতে বলেছিলাম। কাজে দেরি হলে মানুষের ক্ষোভ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে যেকোনো সমস্যায় প্রশাসন ও আমি সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত।”