কন্যার মতো বরণ! ১ টাকাও যৌতুক নিলেন না শ্বশুরবাড়ি, উল্টে বউমাকে দিলেন ১১ লাখের গাড়ি

জয়পুর: সমাজে যেখানে প্রতিনিয়ত পণের দাবিতে বধূ নির্যাতনের খবর সামনে আসে, সেখানে রাজস্থানে দেখা গেল এক অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক ছবি। পণের মতো সামাজিক ব্যাধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক অনন্য নজির গড়ল এক পরিবার। বিয়ের আসরে কনের বাড়ির কাছ থেকে কোনো যৌতুক তো নিলেনই না, উল্টে নতুন বউমার হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিলেন ১১ লক্ষ টাকার একটি বিলাসবহুল গাড়ি। শ্বশুরবাড়ির স্পষ্ট কথা, “আমরা ঘরে কোনো বউমা আনিনি, লক্ষ্মী রূপী মেয়ে এনেছি।”
এই শিক্ষণীয় ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার খাণ্ডবা গ্রামে। পেশায় সিআরপিএফ (CRPF) এর সাব-ইন্সপেক্টর রামকিশানের একমাত্র ছেলে রামবীরের সাথে রাজস্থানেরই আলোয়ার জেলার ইনশার বিয়ে হয়। পাত্র রামবীর এমএসসি এবং পাত্রী ইনশা বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
বিয়ের সময় মেয়ের পরিবার সাধ্যমতো যৌতুক দিতে চাইলেও রামকিশানবাবু অত্যন্ত বিনম্রভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মেয়ের বাবাকে বলেন, “আপনারা আপনাদের কলিজার টুকরো কন্যাকে আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন, এর চেয়ে মূল্যবান সম্পদ আর কিছুই হতে পারে না।” শেষ পর্যন্ত সমস্ত সামাজিক নিয়ম মেনে মাত্র ১ টাকা এবং একটি নারকেল নিয়ে চার হাত এক হয়।
আসল চমকটি অপেক্ষা করছিল বিয়ের পরের দিন। রবিবার নতুন বউমা যখন শ্বশুরবাড়িতে পা রাখেন, তখন প্রচলিত ‘মুখ দেখার’ (মুহ দিখাই) রীতি চলাকালীন শ্বশুর রামকিশান এবং শাশুড়ি কৃষ্ণা দেবী ইনশার হাতে একটি নতুন গাড়ির চাবি তুলে দেন। আচমকা এমন উপহার পেয়ে খুশিতে চোখ ছলছল করে ওঠে ইনশার। শ্বশুরবাড়ির এই আচরণে আপ্লুত হয়ে সে জানায়, এমন পরিবারে আসতে পেরে সে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছে।
নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করতে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সুভাষ পুনিয়া। রামকিশানবাবুর এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “পণপ্রথার মতো সামাজিক অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে সমাজকে এই ধরনের পজিটিভ বার্তাই দিতে হবে। বউমাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসলেই সমাজ বদলাবে।”
উল্লেখ্য, রাজস্থানের এই ঝুনঝুনু জেলা নারীশিক্ষায় রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। শুধু পড়াশোনাই নয়, দেশের সুরক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও এই জেলার কন্যারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আর এবার এই জেলাই পণপ্রথার বিরুদ্ধে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।