মমতাকে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি পদের প্রস্তাব! জল্পনা উড়িয়ে দিল হাত শিবির

দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। জল্পনা ছড়িয়েছিল, তৃণমূলকে কংগ্রেসে মিশিয়ে দেওয়া হতে পারে এবং মমতাকে দেওয়া হয়েছে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদের প্রস্তাব। তবে এই সমস্ত জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুই দলের সংযুক্তিকরণ বা এমন কোনো পদের প্রস্তাব নিয়ে দলের অন্দরে কোনো আলোচনাই হয়নি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দল আলাদা থেকেই একসঙ্গে কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জল্পনার সূত্রপাত ও শিবসেনার পরামর্শ
নির্বাচনী ফলাফলের পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে তো ভোটের হার এবং আসন হারানোর ধাক্কা, অন্যদিকে বিজেপির কৌশলগত চাপে দলত্যাগের হিড়িক লেগেছে। একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদ দল ছাড়ায় তৃণমূলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত প্রকাশ্যে পরামর্শ দেন, বিজেপির মোকাবিলা করতে তৃণমূলের উচিত কংগ্রেসে বিলীন হয়ে যাওয়া। এর ঠিক পরেই ২০২১ সালের পর প্রথমবার দিল্লিতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে মমতার বৈঠক সেই জল্পনায় আরও ঘি ঢালে। যদিও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা নিয়ে কোনো পক্ষই মুখ খোলেনি, তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব সরাসরি প্রস্তাবের কথা অস্বীকার করায় সংযুক্তিকরণের সম্ভাবনা আপাতত খারিজ হয়ে যাচ্ছে।
তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও সম্ভাব্য প্রভাব
দলের সংসদীয় দলের রাশ ধরে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। কলকাতায় ডাকা বৈঠকে সাংসদরা উপস্থিত থাকলেও, পরবর্তীতে তাদের একাংশকে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে দেখা গেছে। এমনকি সম্প্রতি কলকাতায় মমতার বৈঠকে থাকার পরও ইউসুফ পাঠানের দিল্লিতে গিয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সাক্ষাত করা নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। দলত্যাগ-বিরোধী আইন এড়াতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন বিদ্রোহীদের পক্ষে রয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও এই বিদ্রোহ তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে যথেষ্ট দুর্বল করে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দল ভাঙার খেলা অব্যাহত থাকলে তা আগামী দিনে তৃণমূলের অস্তিত্বের সংকট আরও গভীর করতে পারে, যার সুযোগ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত বিরোধী শিবির।