মোদী জমানার ১২ বছরে কতটা পালটে গেল দেশের আয়কর ব্যবস্থা?

মোদী জমানার ১২ বছরে কতটা পালটে গেল দেশের আয়কর ব্যবস্থা?

টানা ১২ বছর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রেকর্ড গড়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর এই দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের আয়কর ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত এক দশকে নতুন কর ব্যবস্থার প্রবর্তন, ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট এবং কর ছাড়ের সীমা বৃদ্ধির মতো একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের সাধারণ বেতনভুক কর্মী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন।

আইনের সরলীকরণ ও কর ছাড়ের নতুন দিগন্ত

কর আইনকে আরও সহজ ও করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক করতে সরকার বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনি জটিলতা কমানো এবং কর পরিপালন সহজ করার উদ্দেশ্যে গত ছয় দশকের পুরোনো ১৯৬১ সালের আইনের বদলে ‘আয়কর আইন ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে। এর পাশাপাশি ২০২০ সালে চালু হওয়া নতুন কর ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করতে ধাপে ধাপে ছাড়ের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে নতুন কর ব্যবস্থায় বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত করা হয়েছে, যা মধ্যবিত্তের জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর। তাছাড়া, চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের পরিমাণ বাড়িয়ে নতুন কর ব্যবস্থায় ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

ডিজিটাল ভারত ও স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রভাব

কর প্রশাসনে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি মোদী সরকারের এই মেয়াদের অন্যতম বড় সাফল্য। আয়কর আধিকারিক ও করদাতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে স্বচ্ছতা আনতে এবং হয়রানির অভিযোগ দূর করতে চালু হয়েছে ‘ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট’। প্রি-ফিলড রিটার্ন ফর্ম এবং আপডেটেড রিটার্ন (ITR-U) চালুর ফলে এখন আয়কর দাখিল করা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও ত্রুটিমুক্ত হয়েছে। অটোমেশনের কারণে করদাতারা এখন রিটার্ন দাখিলের কয়েক দিনের মধ্যেই রিফান্ড পেয়ে যাচ্ছেন।

তবে শুধু ছাড় বা সুবিধাই নয়, কর ফাঁকি রুখতে এবং করের আওতা বাড়াতে উচ্চ-মূল্যের লেনদেনের ওপর নজরদারিও কড়াকড়ি করা হয়েছে। বার্ষিক তথ্য বিবরণী (AIS)-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ই-কমার্স ও বৈদেশিক লেনদেনে টিডিএস/টিসিএস (TDS/TCS) নিয়মে বদল এনে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেছে সরকার। সামগ্রিকভাবে এই ডিজিটাল ও কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো একদিকে যেমন করদাতাদের হয়রানি কমিয়ে প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত করেছে, অন্যদিকে দেশের রাজস্ব সংগ্রহ ও আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *