দেওয়ালে পিঠ ঠেকতেই কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা? তীব্র কটাক্ষ অধীরের

দেওয়ালে পিঠ ঠেকতেই কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা? তীব্র কটাক্ষ অধীরের

দীর্ঘ তিন দশক পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ফের নিজের পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে যাচ্ছেন? ২০২৪ সালের লোকসভা এবং সদ্যসমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিপুল বিপর্যয়ের পর এমনই এক জল্পনা জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই আবহেই প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী তীব্র কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, নির্বাচনে হেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণেই আজ কংগ্রেসের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলে ভাঙন ও অস্তিত্বের সংকট

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, যা এই সংযুক্তিকরণ জল্পনার প্রধান কারণ। দলের অন্দরে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন অন্তর্কলহ। ইতিমধ্যেই দলের ৫৮ জন বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেতা নির্বাচন করেছেন এবং তিনি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ভাঙনের এই ঢেউ আছড়ে পড়েছে লোকসভাতেও। সূত্রের খবর, দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ এনডিএ জোটকে সমর্থনের পথে হাঁটছেন এবং শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। পাশাপাশি, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব। এককথায়, বাংলার মসনদ হারিয়ে চরম অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

অধীরের কটাক্ষ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

দলের এই চরম বিপর্যয়ের মুখেই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এই মেগা বৈঠকের পরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়ায় যে, গান্ধী পরিবারের তরফ থেকেই তৃণমূলকে সসম্মানে কংগ্রেসে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সম্ভাবনার খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তৃণমূলের কট্টর সমালোচক অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা কংগ্রেসকে বাংলা থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে তিনি চিরকাল লড়াই করেছেন। তাঁর মতে, আজ তৃণমূল নেত্রীর এই পরিস্থিতির একমাত্র কারণ তাঁর রাজনৈতিক পরাজয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল যদি সত্যিই কংগ্রেসে বিলীন হয়ে যায়, তবে তা শুধু বাংলার বিরোধী পরিসরকেই নতুন রূপ দেবে না, বরং সর্বভারতীয় স্তরে কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি করে গোটা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে আমূল বদলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *