দিল্লিতে মেগা বৈঠক, আর এদিকে অভিষেকের দরজায় আদালতের সমন!

দিল্লিতে মেগা বৈঠক, আর এদিকে অভিষেকের দরজায় আদালতের সমন!

জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের রূপরেখা তৈরির ব্যস্ততার মাঝেই জোড়া আইনি ও রাজনৈতিক অস্বস্তিতে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে ২০২১ সালের ত্রিপুরা মামলায় তাঁর ব্যক্তিগত হাজিরার নির্দেশ, অন্যদিকে পরপর তিনটি সিআইডি সমন এড়ানো— সব মিলিয়ে তাঁর ওপর চাপ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

ত্রিপুরা আদালতের সমন ও নাটকীয় পরিস্থিতি

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী একটি হিংসার মামলার জেরে ত্রিপুরার খোয়াই জেলা আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ২২ জুন সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার সূত্রপাত ওই বছরের আগস্ট মাসে। ত্রিপুরায় দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে যুবনেতা সুদীপ রাহা ও জয়া দত্তের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে খোয়াই থানায় অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন অভিষেকসহ অন্যান্যরা। সেই প্রেক্ষিতেই ত্রিপুরা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সমনটি সরাসরি অভিষেকের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল, অন্যথায় বাড়ির দেওয়ালে নোটিস সেঁটে দেওয়ার নির্দেশ ছিল। তিনি ও তৃণমূল সভনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে থাকায় সমনটি স্পিড পোস্টে না পাঠিয়ে আলিপুর আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়। বেলিফ ও কালীঘাট থানার পুলিশ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনে পৌঁছালে, বিধায়ক কুণাল ঘোষের হস্তক্ষেপে বাড়ির ভেতরের এক কর্মীর মাধ্যমে নোটিসটি গ্রহণ করানো হয়।

সই জালিয়াতি মামলা ও রাজনৈতিক চাপ

ত্রিপুরার এই মামলার পাশাপাশি একটি সই জালিয়াতি মামলাতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি বেড়েছে। সূত্রের খবর, এই মামলায় সিআইডি-র পরপর তিনটি সমন তিনি এড়িয়ে গেছেন এবং তৃতীয় সমনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি দিল্লিতে চলে যান। ৮ জুন বিরোধী জোটের বৈঠকে যোগ দিতে তিনি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যান। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় ফিরলেও অভিষেক দিল্লিতেই রয়েছেন।

দিল্লিতে যখন বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ নিয়ে সর্বভারতীয় স্তরে আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় কলকাতায় তাঁর বাসভবনে পুলিশি প্রহরায় আদালতের সমন পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জোড়া আইনি পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। আগামী দিনে আইনি পথে তিনি কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *