অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় চমক নবান্নের! এক পরিবারের একাধিক মহিলা কি পাবেন এই সুবিধা?

রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক সম্প্রতি বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর বদলে আনা এই নয়া প্রকল্প ঘিরে যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতেই এই সুস্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। মূলত একক রেশন কার্ডধারী বা মহিলা প্রধান পরিবারকে ন্যূনতম আর্থিক সুরক্ষা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে আবেদনের নিয়ম
প্রকল্প ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা ছিল একই পরিবারের একাধিক মহিলার আবেদন নিয়ে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও যৌথ পরিবারে যদি দুই বিবাহিত দম্পতি আলাদা থাকেন এবং তাঁদের পৃথক রেশন কার্ড ও আধার কার্ড থাকে, তবে প্রযুক্তিগতভাবে তাঁদের সম্পূর্ণ আলাদা পরিবার হিসেবে গণ্য করা হবে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে উভয় পরিবারের নারী প্রধানরাই আলাদাভাবে আবেদন করতে পারবেন এবং প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই যোজনায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলারা আবেদন করতে পারবেন। সাধারণ ও ওবিসি শ্রেণীর জন্য নির্দিষ্ট মাসিক সহায়তার পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের সামাজিক মানোন্নয়নে বর্ধিত হারে বছরে সর্বোচ্চ ৩৬,০০০ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে।
দুর্নীতি রোধে কড়া নিরাপত্তা ও এর প্রভাব
দালাল চক্র ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরাসরি সরকারি টাকা পৌঁছে দিতে কড়া প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সুবিধা পেতে হলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক এবং ডিবিটি (DBT) মোড সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনওভাবেই যৌথ বা জয়েন্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গ্রাহ্য হবে না, আবেদনকারীর নিজস্ব একক (Single) অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যিক। জমা পড়া প্রতিটি আবেদন জেলা শাসক ও পঞ্চায়েত স্তরে ডিজিটাল ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। একই আধার নম্বর দিয়ে একাধিক জালিয়াতির চেষ্টা হলে কড়া আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কঠোর নিয়মের ফলে আর্থিক লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা আসবে এবং প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারাই সরাসরি লাভবান হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।