যুদ্ধঝড়ে ফের রক্তক্ষরণ শেয়ারবাজারে, মাথায় হাত লগ্নিকারীদের!

বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে ফের বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। এ দিন সকাল থেকেই সেনসেক্স এবং নিফটি, দুই সূচকেরই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। সেনসেক্স ১০৫ পয়েন্ট কমে প্রায় ৭৩,৮৬৯ পয়েন্টে এবং নিফটি ৩৭ পয়েন্ট কমে ২৩,১৭৬ পয়েন্টের কাছাকাছি নেমে এসেছে। সপ্তাহের এই কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামায় স্বভাবতই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ লগ্নিকারীরা।
পতনের কারণ ও অর্থনীতির উপর প্রভাব
বাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির পেছনে মূলত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ভারত তার চাহিদার বেশিরভাগ তেলই আমদানি করায় এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি, আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.২ শতাংশে পৌঁছানোয় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারসহ ভারতের আইটি খাতে।
আইটি খাতে বড় ধাক্কা ও স্টক মার্কেটের হালচাল
বিশ্বজুড়ে আইটি শেয়ারের পতনের আঁচ এসে লেগেছে দেশীয় বাজারেও। এ দিন নিফটি আইটি সূচক দুই শতাংশের বেশি নিম্নমুখী ছিল। বড় পতাকার মুখে পড়েছে এইচসিএল, ইনফোসিস, টেক মাহিন্দ্রা এবং টিসিএসের মতো প্রথম সারির স্টক। এছাড়াও ট্রেন্ট, টাইটন, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা এবং আলট্রা টেক সিমেন্টের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে সার্বিক পতনের মধ্যেও কিছু শেয়ার গ্রিন জোনে থেকে বাজারকে কিছুটা সহায়তা করেছে। এর মধ্যে পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন, ভারতী এয়ারটেল, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, সানফার্মা, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, এনটিপিসি এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার শেয়ার তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থেকে লেনদেন শেষ করেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় মুদ্রার স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরলেও আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বজায় রয়েছে।