ইরানে আমেরিকার ভয়াবহ হামলা, হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা!

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে চালানো ভয়াবহ সামরিক হামলায় কেঁপে উঠেছে ইরানের একাধিক অঞ্চল। সিরিক, মিনাব, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের কঠোর হুশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই আক্রমণ শুরু হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব দিতে এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে। হামলার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের বার্তা দিয়ে কঠোর আক্রমণ চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী স্থানীয় সময় বিকেলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। মূলত ইরানের সামরিক তৎপরতা ও পূর্ববর্তী বিভিন্ন ঘটনার জেরে এই বড় আকারের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
আমেরিকান আগ্রাসনের মুখে পিছু হটতে নারাজ তেহরানও। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো তেলবাহী বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হবে। যদিও সেন্টকম দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বৃদ্ধির প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।