তৃণমূলের দুর্দিনে ‘শুদ্ধিকরণ’ বার্তা মহুয়া মৈত্রের

তৃণমূলের দুর্দিনে ‘শুদ্ধিকরণ’ বার্তা মহুয়া মৈত্রের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভূতপূর্ব পরাজয় এবং দলের ভেতর থেকে গণহারে জনপ্রতিনিধিদের দলত্যাগের আবহে রাজনীতির ময়দানে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ এবং ৫৮ জন বিধায়কের বিদায়কে ঘিরে যখন ঘাসফুল শিবিরের অস্তিত্ব সংকটের জল্পনা তুঙ্গে, তখন একে সাধারণ বিপর্যয় হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। বরং এই পরিস্থিতিকে দলের ‘শুদ্ধিকরণ অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি।

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তোপ ও আনুগত্যের পরীক্ষা

দলত্যাগী সাংসদ ও বিধায়কদের নাম না করে তাঁদের ‘আবর্জনা’ ও ‘সুবিধাবাদী’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন মহুয়া। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দুঃসময়ে যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে না দাঁড়িয়ে পিঠে ছুরি মেরে বেরিয়ে যাচ্ছে, তাদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। মহুয়ার মতে, এই সুবিধাবাদীদের দলত্যাগের ফলে তৃণমূল ভেতর থেকে আরও শক্তিশালী ও পবিত্র হচ্ছে। একসময়ের ‘ক্যাশ ফর কোয়েরি’ বিতর্কে মমতা ও অভিষেকের পাশে থাকার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি পুনরায় তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রতি নিজের অটল আনুগত্যের বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জীবিতাবস্থায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

রাজনৈতিক জল্পনায় জল ও আগামীর লড়াই

দলের সংকটময় সময়ে সিআইডি-র ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ নিয়েও সরব হয়েছেন এই তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের কংগ্রেসে একীভূত হওয়ার যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন মহুয়া। তাঁর এই আগ্রাসী অবস্থান এটাই স্পষ্ট করে যে, ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও তৃণমূলের একাংশ নিজেদের আঞ্চলিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মরণকামড় দিতে প্রস্তুত। মহুয়ার এই রণংদেহী রূপ তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহী শিবিরের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *