রাজ্যসভায় শক্তিহ্রাস ও সিআইডি স্ক্যানারে অভিষেক, চরম সঙ্কটে তৃণমূল!

বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বর্তমানে চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে রাজ্যসভায় একের পর এক সাংসদের ইস্তফা, অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
রাজ্যসভায় শক্তিহ্রাস ও দলের অন্দরে ফাটল
সম্প্রতি রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ঘাসফুল শিবিরের অন্যতম সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের পর তাঁর এই ইস্তফার ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে একধাক্কায় ১০-এ এসে দাঁড়িয়েছে। ধারাবাহিক এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে দলের অভ্যন্তরীণ তীব্র মতবিরোধ এবং নেতৃত্বহীনতাকেই চিহ্নিত করছে রাজনৈতিক মহল। দল ছাড়ার পরেই সুখেন্দুশেখর রায় তাঁর প্রাক্তন দলকে তীব্র আক্রমণ করে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন, যা দলের ভাবমূর্তিকে আরও কালিমালিপ্ত করেছে। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ এই ভাঙনের ফলে দিল্লির দরবারে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ব্যাকফুটে চলে গেল।
সিআইডি স্ক্যানারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজনৈতিক এই সঙ্কটের মাঝেই জোরালো আইনি বিপাকে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলায় রাজ্য সিআইডির পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মূলত বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার একটি প্রস্তাবে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি অভিষেকের ডায়মন্ড হারবারের দফতরে তল্লাশিও চালিয়েছে। অভিযোগকারী দুই বিধায়ককে ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও, এফআইআর বাতিল এবং সিআইডি-র কড়া পদক্ষেপ থেকে রক্ষাকবচ পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এই তৃণমূল সাংসদ।
দলের এই লাগাতার ভাঙন, বর্ষীয়ান নেতাদের ক্ষোভ এবং শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত স্পষ্টতই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। একদিকে সংগঠন ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা এবং অন্যদিকে আইনি লড়াই, জোড়া ফলায় রীতিমতো কোণঠাসা রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল।