তৃণমূলে ভাঙন, দিল্লিতে মমতাকে INDIA জোটের মুখ করার বড় চাল অভিষেকের!

তৃণমূলে ভাঙন, দিল্লিতে মমতাকে INDIA জোটের মুখ করার বড় চাল অভিষেকের!

বাংলায় দলের অন্দরে যখন তীব্র বিদ্রোহ ও ভাঙনের আঁচ, ঠিক তখনই জাতীয় রাজনীতিতে এক বিস্ফোরক কৌশল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে তাঁকে সেখানে বিরোধী দলনেত্রী (LoP) করার প্রস্তাব দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির ১০ জনপথের বাসভবনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে খবর। এর চব্বিশ ঘণ্টা আগেই ইন্ডিয়া জোটের সমন্বয় বাড়াতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মমতা। রাহুলের সঙ্গে অভিষেকের বৈঠক এবং মমতাকে কেন্দ্র করে এই নতুন রাজনৈতিক কৌশল জাতীয় রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলী প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে জাতীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে তুলে ধরা। একই সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের রাশ নিজেদের হাতে রাখার বার্তাও রয়েছে এতে। যদিও এই প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়েনি, তবে দিল্লির বৈঠকে অতীতের সমস্ত মতভেদ ভুলে বিজেপি বিরোধিতায় শরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন অভিষেক। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, প্রকাশ্যে একে অপরের সমালোচনা না করে সাধারণ মানুষের সমস্যাকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হোক।

ঘরের মাঠে চরম অস্বস্তি ও সংকট

ঠিক এমন একটি সময়ে এই মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন খোদ রাজ্য তৃণমূলে ভাঙনের সুর স্পষ্ট। সুখেন্দুশেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের মতো হেভিওয়েটদের পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে ১১-তে ঠেকেছে। এর ওপর সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবির দাবি করেছে যে, প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি বিক্ষুব্ধরা কাকলিকে ‘চিফ হুইপ’ ও শতাব্দী রায়কে ‘ডেপুটি লিডার’ হিসেবেও ঘোষণা করেছেন। একদিকে ঘরের মাঠের এই তীব্র গৃহযুদ্ধ সামলানো এবং অন্যদিকে মমতাকে দিল্লির মসনদের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে অভিষেক কতটা সফল হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *