অভিষেককে হেফাজতে চায় সিআইডি! রক্ষাকবচের তীব্র বিরোধিতা করে আদালতে বিস্ফোরক দাবি রাজ্য গোয়েন্দাদের

অভিষেককে হেফাজতে চায় সিআইডি! রক্ষাকবচের তীব্র বিরোধিতা করে আদালতে বিস্ফোরক দাবি রাজ্য গোয়েন্দাদের

কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে ‘নবীন-প্রবীণ’ দ্বন্দ্বের আবহেই এবার আইনি লড়াইয়ে চরম বিপাকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় অভিষেকের আইনি রক্ষাকবচের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করল খোদ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)। আদালতে সিআইডি-র স্পষ্ট সওয়াল, অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে, তাই সত্য উদ্ঘাটনে অভিষেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আদালতে শুনানির সময় সিআইডি-র আইনজীবীরা জানান, এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যেই তিনটি নোটিস পাঠানো হয়েছিল, যার সবকটির মেয়াদই শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে নতুন করে তাঁর আইনি স্বস্তির আবেদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তকারীরা সাফ জানিয়েছেন, অভিষেক চাইলে সরাসরি সিআইডি দফতরে গিয়ে হাজিরা দিতে পারেন, কিন্তু আদালত থেকে কোনো রক্ষাকবচ পাওয়ার অধিকার তাঁর নেই।

আদালতে সিআইডি-র মূল অভিযোগ:

তদন্তকারী সংস্থা জানায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত একটি রেজোলিউশন পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে বেশ কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ তোলেন যে, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সিআইডি আদালতে দাবি করে, “তদন্তে নেমে অনেক বিধায়কই জানিয়েছেন, রেজোলিউশনে যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন তাঁরা উপস্থিতই ছিলেন না। তাহলে তাঁদের স্বাক্ষর এল কোথা থেকে?” গোয়েন্দাদের দাবি, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ বলছে এই জালিয়াতির সাথে অভিষেক সরাসরি যুক্ত। আর তাই আদালতের এজলাসে সিআইডি প্রশ্ন তোলে, “হেফাজতে না নিলে এই তদন্ত কীভাবে এগোবে?”

দলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব এবং আদালতে অভিষেকের পাশে তাঁর না থাকা নিয়ে এমনিতেই জল্পনা তুঙ্গে। তার ওপর খোদ রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা যেভাবে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে হেফাজতে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করল, তা রাজনৈতিক ও আইনি মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *