তৃণমূলের অস্তিত্ব এখন সংকটে! অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিষেক

রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তৃণমূল এখন ভাঙনের মুখে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যে আজ বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। সংগঠনের শীর্ষ স্তর থেকে তৃণমূল স্তরের কর্মী—সবখানেই চলছে চরম অস্থিরতা। দলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষের মতো নেতারাও বিদ্রোহের পথ বেছে নিয়েছেন, যা ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ ভাঙনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস এখন কেবল বিলুপ্তির পথে নয়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে।
সোনার চামচ মুখে নিয়ে রাজনীতির চড়াই-উতরাই
তৃণমূলের উত্থানের সময় বিরোধী দল থেকে লড়াই করে উঠে আসা নেতাদের পরিবর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান ছিল অনেকটা মসৃণ। তৃণমূল যখন ক্ষমতার মধ্যগগনে, তখনই তিনি রাজনীতির মূল ধারায় প্রবেশ করেন। সাংগঠনিক ক্ষমতার শীর্ষে বসতে তাকে ঘাম ঝরাতে হয়নি, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় একের পর এক কৌশল অবলম্বন করে তিনি দলের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন। আই-প্যাক (I-PAC) নির্ভরতা এবং প্রার্থী নির্বাচনে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো অভিজ্ঞ নেতাদের দলত্যাগ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নেতৃত্ব এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের আসল উত্তরাধিকারী কে? রাজ্যে বিজেপি এবং কেন্দ্রের এনডিএ জোটের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে মমতা-অভিষেকদের তৃণমূলের টিকে থাকাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে যে রাহুল গান্ধীকে বা ইন্ডিয়া জোটকে গুরুত্ব দিতে চাননি অভিষেক, সেই সংকটের মুখেই এখন তাকে দিল্লির শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। শাসকের চেয়ারে বসে রাজনীতি করা আর বিরোধী অবস্থানে থেকে লড়াই করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যে এক নয়, বর্তমান পরিস্থিতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ক্ষমতার বলয় থেকে বেরিয়ে এখন তৃণমূলের অস্তিত্ব ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার রাজনৈতিক জীবনের জন্য।