‘চোর চোর শুনতে হচ্ছে ওর জন্য!’ অভিষেকের ঔদ্ধত্যে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূলের সব মামলা ছাড়লেন কল্যাণ

‘চোর চোর শুনতে হচ্ছে ওর জন্য!’ অভিষেকের ঔদ্ধত্যে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূলের সব মামলা ছাড়লেন কল্যাণ

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে বড়সড় ফাটল। দলের দুর্দিনের সহযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সমস্ত আইনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাগুলো থেকে তাঁর এই সরে দাঁড়ানো রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি আইনি লড়াইয়ে দলের পাশে থেকেছেন, তাঁর এমন আকস্মিক পদক্ষেপে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া গভীর সঙ্কটের চিত্রটি আরও একবার প্রকাশ্যে এল।

কেন এই দূরত্ব ও ক্ষোভ?

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁর এখতিয়ারভুক্ত ক্রিমিন্যাল ডিভিশনের একটি রিট পিটিশন তাঁর অজান্তেই অন্য এক আইনজীবীকে দিয়ে ফাইল করানো হয়। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। এরপর গভীর রাতে তাঁর ছেলেকে মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তাঁর আর আদালতে থাকার প্রয়োজন নেই, অন্য আইনজীবী মামলাটি দেখবেন। একজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে ন্যূনতম আলোচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পেশাদার আচরণ না করায় চরম অপমানিত বোধ করেন কল্যাণ। তাঁর মতে, বিধায়কদের সই জালিয়াতির মতো স্পর্শকাতর মামলায় যেভাবে শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে উপেক্ষা করেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অভিষেকের ঔদ্ধত্য ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, অভিষেকের চরম ঔদ্ধত্য এবং অহংকারের কারণেই আজ দলটার এই করুণ দশা। তাঁর দাবি, অভিষেকের বিতর্কিত কার্যকলাপে দলের কর্মীদের সাধারণ মানুষের কাছে ‘চোর’ বদনাম শুনতে হচ্ছে। বর্ষীয়ান এই নেতার আল্টিমেটাম, দল যদি অভিষেককে আঁকড়ে ধরে চলতে চায়, তবে তাঁর আর সেখানে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি অভিষেককে বাদ দিয়ে দল পরিচালনা করেন, তবে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভকে এক নতুন মাত্রা দিল। এর ফলে একদিকে যেমন আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে শাসক দল বড় ধাক্কা খেল, তেমনই অভিষেকের নেতৃত্বকে ঘিরে দলের অন্দরে বিদ্রোহ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। যা ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *