মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়েই দিব্যি থাকছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন আইসিইউ-এর বিপদ!

মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়েই দিব্যি থাকছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন আইসিইউ-এর বিপদ!

বর্তমান প্রজন্মের কাছে রাত জেগে কাজ করা বা মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কর্মক্ষম থাকা যেন সফলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই অভ্যাসই শরীরকে ঠেলে দিচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকির দিকে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শুধু ক্লান্তিই আসে না, এটি শরীরে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ভারতের মতো দেশে ঘুমের ঘাটতি এখন এক নীরব স্বাস্থ্য-সংকটে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই নিয়মিত ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান। শরীর তার স্বাভাবিক ‘রিপেয়ার শিফট’ বা কোষ মেরামতির জন্য যে গভীর ঘুমের প্রয়োজন বোধ করে, কম ঘুমানোর ফলে সেই চক্র বাধাগ্রস্ত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুমের জন্য জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি। শোওয়ার অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভ্যাস বর্জন করা প্রয়োজন। মোবাইলের নীল আলো আমাদের শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমকে বিভ্রান্ত করে ঘুমের মান নষ্ট করে দেয়। অনেক সময় শরীরে কোনো সংকেত ছাড়াই মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং শেষপর্যন্ত আইসিইউতে ভর্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে মেলাটোনিন বা স্লিপ ট্র্যাকারের ওপর নির্ভর না করে, রাতের পর্যাপ্ত ঘুমকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *