নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত যোগী সরকারের, তিন তালাক ও অ্যাসিড আক্রান্ত নারীদের বিনামূল্যে পাকা বাড়ি ও চিকিৎসা

নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত যোগী সরকারের, তিন তালাক ও অ্যাসিড আক্রান্ত নারীদের বিনামূল্যে পাকা বাড়ি ও চিকিৎসা

লখনউ: তিন তালাকের শিকার মুসলিম নারী এবং অ্যাসিড হামলার শিকার হওয়া নির্যাতিতাদের পাশে দাঁড়াতে এক নজিরবিহীন ও মানবিক সিদ্ধান্ত নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। সমাজের এই দুই প্রান্তিক ও বঞ্চিত অংশের মহিলাদের স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে এক বড়সড় সরকারি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন।

মঙ্গলবার সরকারি স্তরে জানানো হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের যে সমস্ত মহিলারা তিন তালাক বা অ্যাসিড হামলার কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন, তাঁদের এবার থেকে সরকারি খরচে পাকা বাড়ি এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে এই তালিকায় জুড়তে চলেছে সমাজের অন্যান্য দুস্থ ও আশ্রয়হীন মহিলাদের নামও।

পাকা বাড়ি ও লাখ টাকার চিকিৎসা একদম ফ্রি

যোগীর রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কড়া নির্দেশেই এই নতুন প্রকল্পের রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী যোগ্য ও গৃহহীন উপভোক্তাদের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ (PMAY) অথবা উত্তরপ্রদেশের নিজস্ব ‘মুখ্যমন্ত্রী আবাস যোজনা’-র মাধ্যমে স্থায়ী পাকা বাড়ি দেওয়া হবে। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে এই মহিলাদের এবং তাঁদের পরিবারকে কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ এবং রাজ্যের ‘মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’-র সাথে সরাসরি যুক্ত করা হবে।

তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে দফতর

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যে এই ধরণের মহিলাদের একটি যাচাইকৃত ও বিস্তারিত তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পূর্ণ হলেই সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হবে। প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, স্রেফ তথ্যের অভাব বা আইনি জটিলতার কারণে যাতে কোনো যোগ্য মহিলা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে।

কেন এই বিশেষ পদক্ষেপ?

উত্তরপ্রদেশ সরকারের আধিকারিকদের মতে, অ্যাসিড হামলার শিকার হওয়া মহিলাদের জীবনভর নানা জটিল অস্ত্রোপচার, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, তিন তালাকের শিকার মহিলারা রাতারাতি আশ্রয় হারিয়ে সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম সংকটে পড়েন। যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশ, এই অসহায় মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের জীবনে স্থায়িত্ব আনা এবং সমাজে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *