শাকিরার নাচে মেক্সিকোয় বিশ্বকাপের বোধন! ফুটবল আবেগের জোয়ারে ভাসছে কলকাতাও

কাতারের লুসেইল স্টেডিয়ামের সাড়ে তিন বছর পর আবার বিশ্বমঞ্চে ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হলো। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বাহারি আলো আর অত্যাধুনিক লেজার শো-এর মধ্য দিয়ে জমকালো উদ্বোধন হয়ে গেল ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। আর উদ্বোধনী মঞ্চে নিজের চেনা ছন্দে আগুন ঝরালেন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। মেক্সিকো সিটির এই বিশ্বজনীন উন্মাদনার আঁচ এসে পৌঁছেছে সুদূর কল্লোলিনী কলকাতাতেও।
শাকিরার মঞ্চ কাঁপানো পারফরম্যান্স ও থিম সং
আলো-আঁধারির মায়াবি পরিবেশে ঝলমলে পোশাকে মঞ্চ মাতাতে হাজির হয়েছিলেন এক এবং অদ্বিতীয় শাকিরা। নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়ের সঙ্গে গলা মিলিয়ে তিনি গেয়ে উঠলেন বিশ্বকাপের থিম সং ‘দাই, দাই’। ৫০ ছুঁইছুঁই পপ সম্রাজ্ঞীর শরীরী হিল্লোল এবং চেনা নাচের ম্যাজিক মুহূর্তের মধ্যে স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে বিদ্যুতের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি গ্র্যামিজয়ী মেক্সিকান পপ ব্যান্ড ‘মানা’ তাদের দেশের মাটিতে জনপ্রিয় গান ‘ওয়ে মি আমোরে’ গেয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে একশোয় একশো করে তোলে।
ফুটবল জ্বরে স্তিমিত মেক্সিকোর বিক্ষোভ
মেক্সিকো সিটির রাস্তায় এখন শুধু রামধনুর সাত রঙের মেলা। ট্রফি, লোগো এবং ম্যাসকটের বিরাট কাট-আউটের সামনে সমর্থকদের সেলফি তোলার হিড়িক চোখে পড়ার মতো। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, গলায় স্কার্ফ ঝুলিয়ে ড্রাম বাজাতে বাজাতে স্টেডিয়ামের দিকে ছুটছেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, শহরজুড়ে শিক্ষা সংস্কার, শিক্ষক ও অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে যে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল চলছিল, ফুটবল বিশ্বকাপের জাদুতে তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। ফুটবল উন্মাদনা আপাতত সব ক্ষোভকে গ্রাস করেছে।
তিন দেশে ভিন্ন মেগা আয়োজন
ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফানতিনোর উপস্থিতিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে এই ফুটবল মহাযজ্ঞের সূচনা হলো। ইতিহাসে এই প্রথম তিনটি দেশে ভিন্ন ভিন্ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
- মেক্সিকো সিটি: বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলো।
- টরন্টো: বিশ্বকাপের পরবর্তী আকর্ষণ হিসেবে শুক্রবার রাতে (ভারতীয় সময় রাত ১১টা) মাতবে কানাডার এই শহর।
- লস অ্যাঞ্জেলেস: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শহরে কেটি পেরিদের সুরেলা ধামাকা শোনা যাবে শনিবার ভোরে (ভারতীয় সময় ভোর ৫টা)।
ফুটবল আবেগের ঢেউ তিলোত্তমায়
মেক্সিকোর ঘড়িতে যখন সকাল ১১টা, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে দশটা। তড়িঘড়ি রাতের খাওয়া সেরে টিভির সামনে কিংবা মুঠোফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখেছিলেন কলকাতার ফুটবল পাগল মানুষ। মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের চেনা ঘরোয়া দ্বৈরথ দূরে সরিয়ে আগামী ৪০ দিনের জন্য বাঙালি মেতে উঠছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহাদ্বন্দ্বে। রাত জাগা আর ভোরবেলা ওঠাটাই এখন কলকাতার আমজনতার অভ্যাসে পরিণত হতে চলেছে। সকাল হলেই হাতে খবরের কাগজ আর চায়ের ঠেকে মেসি-রোনাল্ডো-নেইমার-এমবাপেদের নিয়ে চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তর্ক-বিতর্ক। কারণ, সব খেলার সেরা ফুটবল যে বাঙালির রক্তে মিশে রয়েছে।