প্রতিদিনই উইকেট পড়ছে তৃণমূলে! মমতার দল ভাঙার মাস্টারমাইন্ড কে?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই এখন ধসে পড়া ক্রিকেট ব্যাটিং লাইনের সঙ্গে তুলনা করছেন। এক সময় এ রাজ্যে যে দল নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর সেই দলই এখন প্রতিদিন নতুন ধাক্কার মুখে পড়ছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ দল ছাড়ছেন, বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন কিংবা নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছেন। এই ধারাবাহিক পতনের আবহে এখন রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তৃণমূলের এই নজিরবিহীন ভাঙনের নেপথ্যে আসল মাস্টারমাইন্ড বা মূল কৌশলী কে?

লোকসভা ও বিধানসভায় বিদ্রোহের আগুন

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, লোকসভায় তৃণমূল ভাঙার অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অসন্তুষ্ট এবং বিক্ষুব্ধ সাংসদদের এক ছাতার তলায় এনে দিল্লির বুকে মমতাবিরোধী মঞ্চ তৈরি করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্য বিধানসভার অন্দরে বিদ্রোহী শিবিরের ব্যাটন রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে, যাঁর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই একঝাঁক বিধায়ক শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

নেপথ্যে কি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিখুঁত চাল?

তবে রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের তীব্র নজর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। বহু বিশ্লেষকের মতে, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে অত্যন্ত চতুর রাজনৈতিক কৌশলে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু অধিকারী নিজে দীর্ঘদিন তৃণমূলে থাকার কারণে দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও দুর্বলতার প্রতিটি রন্ধ্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। ফলে তাঁর নিখুঁত চালের জেরেই ধীরে ধীরে ঘাসফুল শিবিরের ভিত ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাত এবং কল্যাণের তোপ

তৃণমূলের এই ভাঙনের পরিধি শুধু বাংলাতেই সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেবের আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরেও জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সুস্মিতার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগই এই পদত্যাগের নেপথ্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এর পাশাপাশি, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় দলটির অস্বস্তি ও ফাটল আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধারাবাহিক ভাঙন স্রেফ ক্ষমতা হারানোর স্বাভাবিক পরিণতি, নাকি এর পিছনে কোনও গভীর সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক নকশা কাজ করছে, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *